জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের প্রতি অপমানজনক বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। একই সঙ্গে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের অভিযোগও তুলেছে দলটি।
রবিবার (৫ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র সপ্তম নৌবহর পাঠিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল এবং পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল। সেই ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বজলুর রশিদ ফিরোজ আরও দাবি করেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অসম বাণিজ্য চুক্তি করেছে, যা দেশের অর্থনীতি, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে।
তিনি অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তর, স্টারলিংয়ের হাতে ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া এবং মিয়ানমারের আরাকানে মানবিক করিডোর ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের এদেশীয় সহযোগীদের মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
বিবৃতিতে বাসদ নেতা বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাবেদারির নীতি অনুসরণ করছে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি ৪ জুলাই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতাদের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বজলুর রশিদ ফিরোজ দেশকে ‘আমেরিকার করদরাজ্য’ বানানোর যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
