প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে তৈরি।
বিবাহিত নারীর আর্থিক অধিকার আরও কার্যকরভাবে সুরক্ষিত করতে বিয়ের সময় নির্ধারিত দেনমোহর আদায়ের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন।
তিনি জানান, সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।
রিটের বিষয়ে ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার বলেন, বিয়ের সময় অনেক ক্ষেত্রে দেনমোহরের একটি অংশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করা হলেও বাকি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থেকে যায়। বর্তমানে বিয়ের সময় যে পরিমাণ দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়, বহু বছর পর তা পরিশোধ হলেও অর্থের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে মূল্যস্ফীতির কারণে দেনমোহরের প্রকৃত আর্থিক মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং বিবাহিত নারীর আর্থিক সুরক্ষার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে বকেয়া দেনমোহর পরিশোধের ক্ষেত্রে সময়ের ব্যবধান ও অর্থের প্রকৃত মূল্য বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে দেনমোহরের মাধ্যমে নারীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও কার্যকর হবে।
রিটে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১০ ধারার অধীনে দেনমোহর আদায়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—এ মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে, বিবাহের এক বছর বা তারও পরে বকেয়া দেনমোহর পরিশোধের ক্ষেত্রে কীভাবে এর প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ ও আদায় করা হবে, সে বিষয়ে বর্তমানে কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই। একটি কার্যকর নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হলে বিবাহিত নারীর আর্থিক অধিকার ও স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে। একই সঙ্গে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১০ ধারার বিদ্যমান অস্পষ্টতা দূর করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পথও সুগম হবে।
