ফাইল ছবি
আইনি লড়াই ও অপেক্ষার পর ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আরও ৭৮ জন বঞ্চিত প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (৫ জুলাই) সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের ভিত্তিতে তাঁদের নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদান করতে হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না পেলে নির্ধারিত তারিখেই যোগদান বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী চাকরিতে যোগ দিতে অনিচ্ছুক বলে গণ্য হবেন এবং তাঁর নিয়োগপত্র বাতিল করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা (সিনিয়রিটি) অক্ষুণ্ন রাখতে তাঁদের ব্যাচের প্রথম নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পূর্বের নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের কার্যকর তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষভাবে (Retrospective Effect) নিয়োগ কার্যকর হবে। ফলে তাঁদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা বজায় থাকবে। তবে এ কারণে তাঁরা কোনো ধরনের বকেয়া আর্থিক সুবিধা পাবেন না।
এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ২৭তম বিসিএসের ৬৭৩ জন এবং চলতি বছরের ১৩ মে আরও ৯৬ জন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পটভূমি
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারি ২৭তম বিসিএসের প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৩ হাজার ৫৬৭ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। কিন্তু একই বছরের ৩০ জুন তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সেই ফল বাতিল করে।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের পর ২০০৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফলে ৩ হাজার ২২৯ জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়।
প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্ট সরকারের সিদ্ধান্তকে বৈধ ঘোষণা করেন। পরে রিটকারীরা আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর গত বছরের ৭ নভেম্বর আপিল বিভাগ রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক রায়ে ২৭তম বিসিএসের নিয়োগবঞ্চিত ১ হাজার ১৩৭ জনের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেন। সেই ধারাবাহিকতায় সরকার পর্যায়ক্রমে নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রজ্ঞাপন জারি করে আসছে।
