বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালিতে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নেতাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনায় র্যালিতে সৃষ্টি হয় সাময়িক বিশৃঙ্খলা।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের মিশনপাড়া এলাকা থেকে র্যালিটি বের হয়ে চাষাঢ়া সমবায় মার্কেটের সামনে পৌঁছালে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাইয়ানের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ মহানগর বিএনপির সদস্য ও অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত শাহীন আহম্মেদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শাহীন আহম্মেদকে কিল-ঘুষি মারতে এবং তার পরনের গেঞ্জি টানাটানি করতে দেখা যায়।
হাতাহাতির সময় ঘটনাস্থলের সামনেই উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি দ্রুত শাহীন আহম্মেদকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
তবে কী কারণে এ হাতাহাতির সূত্রপাত—তাৎক্ষণিকভাবে এর স্পষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি।
এ বিষয়ে শাহীন আহম্মেদ অবশ্য মারামারির ঘটনা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মারামারির কোনো ঘটনা ঘটেনি। মিছিলে নেতাকর্মীদের সামনের সারিতে আসতে ধাক্কা নিয়ন্ত্রণ করতে একটু হট্টগোল হয়েছে। এছাড়া তেমন বড় কিছু ঘটেনি।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে শাহীন আহম্মেদকে কয়েকজনের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়াতে এবং তাকে কিল-ঘুষি মারাসহ পরনের গেঞ্জি টানতে দেখা গেছে। এ সময় অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এগিয়ে এসে তাকে সরিয়ে নেন।
পরে বর্ণাঢ্য র্যালি
হাতাহাতির ঘটনা সামাল দেওয়ার পর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি। র্যালিতে ঘোড়ার গাড়ি, বাদ্যযন্ত্রের পাশাপাশি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পোস্টার-ব্যানার, প্ল্যাকার্ড এবং দলীয় ও জাতীয় পতাকা ছিল।
র্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এর আগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
সভায় বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন খানসহ মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
