রবিবার, ৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গণপূর্তে ‘পদোন্নতি প্যাকেজ’—দেড় কোটি টাকার অভিযোগ, ৭৫ লাখ অগ্রিম?

আবদুর রহমান
অক্টোবর ৪, ২০২৬ ২:০৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ট্রাইব্যুনালের শোকজের মধ্যেই পদোন্নতির তৎপরতা, নথিতে সারওয়ার জাহান বিপ্লবের ভূমিকা; ১৪ বছর ধরে ক্যাডার-নন-ক্যাডার জট। ফাইল ছবি

গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি ও চলতি দায়িত্ব দেওয়াকে ঘিরে এবার উঠেছে দেড় কোটি টাকার কথিত উৎকোচ বাণিজ্যের বিস্ফোরক অভিযোগ। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মুহাম্মদ সারওয়ার জাহান বিপ্লব।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের পৃথক দুটি সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাসে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে কথিতভাবে ৭৫ লাখ টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে পদোন্নতি প্রক্রিয়া সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, প্রশাসনিক জটিলতা ও আদালতের হস্তক্ষেপে আটকে গেলে ওই অর্থ ফেরত চান জাহাঙ্গীর আলম।

সূত্রগুলোর অভিযোগ, টাকা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে সারওয়ার জাহান বিপ্লব গড়িমসি করছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি। ফলে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।

অভিযোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে একই পদে পদোন্নতি ও চলতি দায়িত্ব দেওয়ার আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলা চলমান থাকায়। ৩১ আগস্ট ২০২৬-এর আদেশে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

৭৫ লাখ অগ্রিম, দেড় কোটি টাকার ‘প্যাকেজ’!

মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের পৃথক দুটি সূত্রের দাবি, তিন নির্বাহী প্রকৌশলীকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) পদে পদোন্নতি অথবা চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়াকে ঘিরে দেড় কোটি টাকার কথিত আর্থিক সমঝোতা হয়েছিল।

সূত্রগুলোর দাবি, এর অংশ হিসেবে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম ৭৫ লাখ টাকা অগ্রিম দেন। কিন্তু পরবর্তীতে পদোন্নতি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। একপর্যায়ে সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং আদালতের হস্তক্ষেপে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়ে।

এরপর জাহাঙ্গীর আলম অগ্রিম দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে তা ফেরত দিতে সারওয়ার জাহান বিপ্লব গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগটি সত্য হলে সরকারি পদোন্নতির মতো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেনের বিষয়টি গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগে পরিণত হতে পারে। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে সংশ্লিষ্টদের প্রমাণসহ অবস্থান পরিষ্কার করার সুযোগ রয়েছে—৭৫ লাখ টাকার অভিযোগের ভিত্তি কী এবং কেন এমন অভিযোগ উঠেছে, সেটিও তদন্তে স্পষ্ট হতে পারে।

ট্রাইব্যুনালের শোকজ—তবুও কেন পদোন্নতির তৎপরতা?

এখানেই সামনে এসেছে বড় প্রশ্ন।

এ.টি. মামলা নং ২৭৯/২০২৬-এ মো. আবদুল হালিমসহ ১০ কর্মকর্তা গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর ৩ মার্চ ২০২৬-এর একটি স্মারকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছেন।

ট্রাইব্যুনালের ৩১ আগস্ট ২০২৬-এর আদেশে উল্লেখ করা হয়, ওই স্মারকে কর্তৃপক্ষ মত দিয়েছে—গ্রেড-৬-এ সরাসরি নিয়োগ পাওয়া উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৭ প্রযোজ্য নয়। একই সঙ্গে তাদের গ্রেড-৪ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) পদে পদোন্নতির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়।

বাদীপক্ষের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্যাডার সার্ভিসে এনক্যাডারভুক্ত নন এবং তাদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালা প্রযোজ্য। তাদের পদোন্নতি বা চলতি দায়িত্ব দেওয়া হলে বাদীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আদালতে দাবি করা হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন—কেন ৩ মার্চ ২০২৬-এর স্মারক এবং এর ভিত্তিতে পদোন্নতি বা চলতি দায়িত্বের পরবর্তী কার্যক্রম আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না।

মামলার পরবর্তী সার্ভিস রিটার্নের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০২৬।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় পদোন্নতি বা চলতি দায়িত্বের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ কেন?

নথিতে সারওয়ার জাহানের সরাসরি ভূমিকা

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ২৬ অক্টোবর ২০২৫-এর স্মারক নং ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১২.১০৭.১৮-১৩৫৭ পর্যালোচনায় দেখা যায়, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম)-এর তিনটি শূন্য পদে তিন নির্বাহী প্রকৌশলীকে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

প্রস্তাবটির স্বাক্ষরকারী ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মুহাম্মদ সারওয়ার জাহান।

প্রস্তাবিত তিন কর্মকর্তা হলেন—

মো. জিয়াউর রহমান—নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম), গণপূর্ত ই/এম ডিজাইন বিভাগ-১, ঢাকা।

মো. জাহাঙ্গীর আলম—নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম), রিজার্ভ, সংযুক্ত গণপূর্ত ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগ, ঢাকা।

তাসফিন মুহাইমীন হক—নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম), গণপূর্ত ই/এম প্ল্যানিং বিভাগ-৩, ঢাকা।

তাদের যথাক্রমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী গণপূর্ত ই/এম সার্কেলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পদায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

অর্থাৎ, যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে ঘিরে এখন আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ নথিতেই সারওয়ার জাহান বিপ্লবের স্বাক্ষর রয়েছে। তবে নথিতে স্বাক্ষর থাকা অর্থ লেনদেনের প্রমাণ নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথি, অর্থের উৎস-গন্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যসহ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।

১৪ বছরের ক্যাডার-নন-ক্যাডার জট

গণপূর্ত ই/এম বিভাগে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার বিরোধ নতুন নয়। প্রায় ১৪ বছর ধরে এ জটের নিষ্পত্তি হয়নি।

২০১১ সালে পিএসসির মাধ্যমে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। শতাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে ১৪ জন নিয়োগ পান। তাদের মধ্যে ১১ জন ২০১২ সালে যোগদান করেন।

পরবর্তীতে বিসিএস (গণপূর্ত) ক্যাডারের ২৭তম, ২৮তম ও ৩০তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তাদের নিয়োগ ও ক্যাডার মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এক পক্ষের দাবি, ওই ১১ কর্মকর্তা নন-ক্যাডার নিয়োগপ্রাপ্ত। অন্য পক্ষের দাবি, পিএসসির মাধ্যমে তাদের ক্যাডার পদেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এই বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) পদে পদোন্নতি নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা নিয়েও প্রশ্ন

২৭তম, ২৮তম ও ৩০তম বিসিএসের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সরাসরি উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের কেউ কেউ প্রয়োজনীয় সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা সম্পন্ন না করেই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

তাদের যুক্তি, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৭-এর বিধি ৮(২) অনুযায়ী বিভাগীয় ও সিনিয়র স্কেল পরীক্ষার শর্ত পূরণ না করলে উচ্চতর পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে আইনগত বাধা রয়েছে।

অন্যদিকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের বক্তব্য, পিএসসিই তাদের নিয়োগ দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিতে তাদের ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

অর্থাৎ বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে দুটি প্রশ্ন—তারা ক্যাডার না নন-ক্যাডার এবং কোন বিধির অধীনে তারা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে যাওয়ার যোগ্য?

এই দুই প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তিই দীর্ঘদিনের জটিলতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধেও পৃথক তদন্ত

নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা অধিশাখার নথিতে দেখা যায়, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৯ জুলাই ২০২৬ তদন্ত কমিটির সভাও আহ্বান করা হয়েছিল।

কমিটিতে ছিলেন রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদিউল আলম এবং গণপূর্ত ই/এম ডিজাইন বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী অজান্তা শুক্লা তন্মা।

অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে উচ্চতর দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব কতটা যুক্তিসঙ্গত—সেটিও এখন আলোচনার বিষয়।

‘অবৈধ নিয়োগ’ নাকি বৈধ ক্যাডার নিয়োগ?

সরাসরি নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিসিএস কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কেবল মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং নিয়োগের সময় উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের বিষয়ও ছিল।

অন্যদিকে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, পিএসসিই তাদের নিয়োগ দিয়েছে এবং নিয়োগের বৈধতা নিয়ে সরকারি দপ্তরগুলোর নথিতে ভিন্ন অবস্থান নেই।

ফলে বিষয়টির চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণে নিয়োগের মূল বিজ্ঞপ্তি, পিএসসির নিয়োগসংক্রান্ত নথি, আদালতের সব আদেশ এবং ক্যাডারভুক্তির সরকারি প্রজ্ঞাপন একসঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

প্রধান প্রকৌশলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি

দেড় কোটি টাকার কথিত উৎকোচ বাণিজ্য, ৭৫ লাখ টাকা অগ্রিম এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মুহাম্মদ সারওয়ার জাহান বিপ্লবও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজেদের নিয়োগ ও ক্যাডার মর্যাদা বৈধ বলে দাবি করে আসছেন।

এখন মন্ত্রণালয়ের সামনে একাধিক প্রশ্ন

পুরো ঘটনায় এখন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সামনে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে।

৭৫ লাখ টাকা অগ্রিম নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা কি তদন্ত করা হবে?

দেড় কোটি টাকার কথিত ‘পদোন্নতি প্যাকেজ’-এর পেছনে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, তা কি অনুসন্ধান করা হবে?

৩ মার্চ ২০২৬-এর স্মারকের আইনগত ভিত্তি কী?

প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের কারণ দর্শানোর আদেশের পর সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি বা চলতি দায়িত্বের প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে?

২০১১-১২ সালের নিয়োগপ্রাপ্ত ১১ কর্মকর্তার প্রকৃত ক্যাডার মর্যাদা কী?

সিনিয়র স্কেল ও বিভাগীয় পরীক্ষার শর্ত তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না?

জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের মধ্যে তাকে উচ্চতর দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবের যৌক্তিকতা কী?

সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—সরকারি পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিধি, যোগ্যতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতাই কি একমাত্র বিবেচনা হবে, নাকি কথিত ‘পদোন্নতি প্যাকেজ’-এর অভিযোগের পেছনে সত্যিই কোনো আর্থিক লেনদেন ছিল?

গণপূর্ত অধিদপ্তরের দীর্ঘদিনের ক্যাডার-নন-ক্যাডার জট দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে শূন্য পদ পূরণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে।

আর ৭৫ লাখ টাকা অগ্রিম ও দেড় কোটি টাকার কথিত উৎকোচের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি শুধু পদোন্নতির অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি সরকারি প্রশাসনের অভ্যন্তরে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ হিসেবে তদন্তের দাবি রাখবে।

তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে পুরো বিষয়টির স্বচ্ছ নিষ্পত্তিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।