ফাইল জিম্মি করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ, স্বামীর প্রতিষ্ঠানে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ—৪২১ নম্বর কক্ষে ‘ঘুষের হাট’ সম্পদের বহর নিয়েও প্রশ্ন। ফাইল ছবি
রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের পরিকল্পিত নগরায়ণের দায়িত্বে থাকা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রশাসনিক কার্যক্রম ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন রাজউকের জোন-৫ ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর প্রকল্প দপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর (অতিরিক্ত দায়িত্বে উচ্চমান সহকারী) ফাতেমা বেগম মলি এবং এস্টেট ও ভূমি-২ শাখার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর জাহিদুল ইসলাম সবুজ।
অভিযোগকারীদের দাবি, তৃতীয় শ্রেণির এই দুই কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার সুযোগে রাজউকের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে প্রভাব বিস্তার করেছেন। ফাইল আটকে অর্থ আদায়, ঠিকাদারি কাজে সুবিধা দেওয়া, সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, গুরুত্বপূর্ণ নথির গতিপথ নিয়ন্ত্রণ এবং কমিশন বাণিজ্যের মতো অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের পর অভিযোগ উঠলেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—কার ছত্রচ্ছায়ায় এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন এই দুই কর্মচারী?
মলির টেবিলেই কি আটকে থাকে ফাইল?
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে অভিযোগের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ—ফাইল আটকে রেখে উৎকোচ আদায়ের কৌশল।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাক্কলন বা এস্টিমেট, ঠিকাদারদের চুক্তি সম্পাদন, বোর্ড সভার কার্যপত্র, ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন এবং ঠিকাদারদের রানিং ও ফাইনাল বিলসহ গুরুত্বপূর্ণ নথির কোনো কোনো পর্যায়ে মলির ডেস্কে ফাইল আটকে থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কাঙ্ক্ষিত অর্থের অঙ্ক মিলে গেলে ফাইল দ্রুত এগিয়ে যায়। আর অর্থের সমঝোতা না হলে নথিতে একের পর এক আপত্তি বা অসঙ্গতি তুলে ফাইল আটকে রাখা হয়। দিনের পর দিন, কখনো মাসের পর মাস ফাইল পড়ে থাকার অভিযোগও রয়েছে।
ফলে সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ—রাজউকের কিছু ফাইল যেন অদৃশ্য তালায় বন্দি, আর সেই তালার চাবি থাকে নির্দিষ্ট টেবিলে।
স্বামীর প্রতিষ্ঠানে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ
ফাতেমা বেগম মলিকে ঘিরে ওঠা আরেকটি অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁর স্বামী আবুল ফজল রাজু-এর মালিকানাধীন ‘রাজু ইন্টারন্যাশনাল’ ও ‘রাজু প্রপার্টিজ অ্যান্ড ডেভেলপারস’ নামের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাজউকের কাজের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে দাপ্তরিক অবস্থান ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। দরপত্র আহ্বানের আগেই প্রকল্পসংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এমনকি দরপত্রের শর্ত এমনভাবে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে, যাতে কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় বাড়তি সুবিধা পায়।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের দরপত্র নথি, প্রাক্কলন, টেন্ডার শিডিউল, মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন, কার্যাদেশ ও চুক্তিপত্র পর্যালোচনা করা জরুরি।
৪২১ নম্বর কক্ষে ‘ঘুষের হাট’—অভিযোগ সবুজকে ঘিরে
অন্যদিকে রাজউকের এস্টেট ও ভূমি শাখায় জাহিদুল ইসলাম সবুজের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, রাজউক ভবনের ৪২১ নম্বর কক্ষ ঘিরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষতিপূরণের ফাইল, প্লট বরাদ্দপত্র, নামজারি ও মালিকানা পরিবর্তনের মতো স্পর্শকাতর নথি নিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
একই প্লট একাধিক ব্যক্তির নামে বরাদ্দ, মূল নথি থেকে মালিকের ছবি পরিবর্তন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব করে দেওয়ার মতো অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগগুলো সত্য হলে বিষয়টি শুধু ঘুষ লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং রাজউকের ভূমি প্রশাসন ও নথি ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হবে।
রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল বানানোর অভিযোগ
অভিযোগে ফাতেমা বেগম মলিকে রাজউকের সাবেক এক সদস্যের সাবেক পিএ এবং শ্রমিক কর্মচারী লীগের স্বঘোষিত মহিলা বিষয়ক নেত্রী হিসেবে পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে তাঁর স্বামী আবুল ফজল রাজুকে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক পল্লী উন্নয়ন সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, দাপ্তরিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি রাজউকের ঠিকাদারি অঙ্গনে প্রভাব বিস্তার করতেন।
জাহিদুল ইসলাম সবুজ ১৯৯৮ সালে রাজউকে যোগ দেন এবং শ্রমিক কর্মচারী লীগের কার্যকরী সভাপতির পদে ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
তবে এসব রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক পদসংক্রান্ত দাবির স্বতন্ত্র যাচাই প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দুদক—অভিযোগের পর অভিযোগ
ঠিকাদার মেহেদী হাসান নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করে ফাতেমা বেগম মলিকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দাখিল করেছেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া লিখিত অভিযোগে মলির ঝিগাতলার ফ্ল্যাট, পূর্বাচলের প্লট এবং কথিত ঘুষ বাণিজ্যের বিষয় তুলে ধরা হয়।
পরে ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর এবং ২০২৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাহিদুল ইসলাম সবুজের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক নিপীড়ন, ৪২১ নম্বর কক্ষের কথিত অর্থ লেনদেন এবং রিসোর্টে বিনিয়োগের বিষয়ে দুদকে তথ্য-প্রমাণ দাখিলের দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এত অভিযোগ ও নথি জমা পড়লেও কার্যকর নিষ্পত্তি হয়নি কিংবা বিষয়গুলো দীর্ঘসূত্রতায় আটকে রয়েছে।
বেতন একদিকে, সম্পদের বহর অন্যদিকে—প্রশ্নের মুখে সম্পদের উৎস
সরকারি বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী একজন অফিস সহকারী বা উচ্চমান সহকারীর আয় তুলনামূলক সীমিত। সেই আয়ের সঙ্গে কথিত বিপুল সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়েই উঠেছে বড় প্রশ্ন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফাতেমা বেগম মলি বা তাঁর পরিবারের সংশ্লিষ্টতায় ধানমন্ডি ও ঝিগাতলার ১৫/এ সড়কের এমসিটি ডার্লিং পয়েন্টের লেভেল ই-৫-এ তিনটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ১৭, ২২ ও ২৭ নম্বর সেক্টরে ৫ কাঠা আয়তনের তিনটি প্লট, নারায়ণগঞ্জ সদর, রূপগঞ্জ ও চাঁদপুরের গ্রামে জমিজমা এবং ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৪৬১৮ নম্বরের একটি নোয়া মাইক্রোবাস থাকার দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের হিসাবে এসব সম্পদের মূল্য ৫০ কোটি টাকার বেশি।
অন্যদিকে জাহিদুল ইসলাম সবুজের বিরুদ্ধে রাজধানীর সবুজবাগে প্রায় ২ হাজার বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্ট, দক্ষিণ মাদারটেক কবরস্থানসংলগ্ন এলাকায় ১০ কাঠা জমির ওপর নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে যৌথ অংশীদারিত্ব, গাজীপুরের ভবানীপুরে ‘রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলেজ’-এ বিনিয়োগ, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর ও বগুড়ার শেরপুরে একাধিক পাকা বাড়ি এবং ঢাকা মেট্রো-৫১৮৯৩৭ নম্বরের নোয়া মাইক্রোবাস থাকার অভিযোগ রয়েছে।
তবে সম্পদের মালিকানা, ক্রয়মূল্য, অর্থের উৎস ও আয়কর নথি যাচাই ছাড়া এসব সম্পদের বৈধতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সম্পদ বিবরণী, দলিল, ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কাঠামো পরীক্ষা করা জরুরি।
দুদকের অনুসন্ধানও কি ফাইলবন্দি?
অভিযোগকারীদের দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক প্রবীর কুমার দাস ফাতেমা বেগম মলির কথিত অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানের দায়িত্বে থাকলেও সেই অনুসন্ধান দীর্ঘদিনেও দৃশ্যমান অগ্রগতি পায়নি।
এখন প্রশ্ন উঠছে—অভিযোগের সঙ্গে থাকা নথি ও সম্পদের তথ্য যাচাইযোগ্য হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার অনুসন্ধান কোন পর্যায়ে রয়েছে?
দুদকের অনুসন্ধান নথি, সম্পদ বিবরণী, দলিলপত্র, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয়-ব্যয়ের তথ্য পর্যালোচনা করলেই এ প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে।
২০২৪-এর পরও চাকরিতে বহাল—প্রশ্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থায়
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন-পীড়ন ও অর্থায়নের অভিযোগে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শাহআলী থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় (সিআর নং ৯৯/২০২৫) ফাতেমা বেগম মলি ১৫৬ নম্বর এবং তাঁর স্বামী আবুল ফজল রাজু ১৬০ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে উল্লেখ রয়েছেন।
অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—এমন মামলা থাকার পর রাজউকের পক্ষ থেকে মলির বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তসহ কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না?
তবে মামলায় তাঁদের নাম, মামলার বর্তমান আইনি অবস্থান এবং রাজউকের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—সবই সংশ্লিষ্ট নথি ও আদালতের রেকর্ড দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
কাজের মান যাচাই না করেই বিল ছাড়ের অভিযোগ
অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঠিকাদারদের রানিং ও ফাইনাল বিল পরিশোধকে ঘিরে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের বাস্তব কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা পর্যাপ্তভাবে যাচাই না করেই বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন নেওয়া হতো। ফলে মানহীন কাজও কাগজে-কলমে সন্তোষজনক দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
এতে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়, অন্যদিকে প্রকল্পের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
আর স্বামীর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারি কাজের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক থাকলে সেটি স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করেছে কি না—তাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
দুই কর্মচারীর পেছনে কারা?
ফাইল আটকে রাখা, ঠিকাদারি কাজে প্রভাব, সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া, এস্টেট ও ভূমি নথি, কথিত অর্থ লেনদেন এবং সম্পদ অর্জনের অভিযোগ—সবকিছু পাশাপাশি রাখলে একটি প্রশ্নই সামনে আসে:
দুই কর্মচারী কীভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেলেন?
তাঁদের পেছনে কোনো কর্মকর্তা, প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা দাপ্তরিক বলয় সক্রিয় ছিল কি না—সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা।
মলির বক্তব্য পাওয়া যায়নি, সবুজের দাবি—‘অভিযোগ মিথ্যা’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফাতেমা বেগম মলির ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রতিবারই অচেনা এক কণ্ঠ থেকে ফোনটি ‘রং নম্বর’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। হোয়াটসঅ্যাপে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাঠানো হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে জাহিদুল ইসলাম সবুজ অভিযোগগুলো সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি রাজউকে সততার সঙ্গে চাকরি করি। দাপ্তরিক কোনো কাজের বিনিময়ে আমি কারও কাছ থেকে কোনোদিন এক পয়সাও ঘুষ নিইনি। একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার সম্মানহানি করতে এবং আমাকে চাকরি থেকে সরানোর চক্রান্ত হিসেবে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ বিভিন্ন সংস্থায় ছড়াচ্ছে।
রাজউক বলছে—প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা
রাজউকের দায়িত্বশীল মহলের দাবি, তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে কর্তৃপক্ষ তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে।
তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো একক ব্যক্তির অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় পুরো প্রতিষ্ঠান নেবে না। উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফাইলের জট খুলবে কবে?
রাজউকের মতো নগর উন্নয়ন ও ভূমি ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কোনো কর্মচারীর টেবিলে দিনের পর দিন ফাইল আটকে থাকার অভিযোগ নিছক একজন সেবাগ্রহীতার ভোগান্তির বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারি অর্থ ব্যয় এবং নাগরিক সেবার স্বচ্ছতা।
তাই অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তিতে শুধু তদন্ত কমিটি গঠন করলেই হবে না। ফাইলের গতিপথ, দরপত্রের প্রতিটি ধাপ, সম্পদের উৎস, ব্যাংক লেনদেন, সরকারি নথি, প্লট বরাদ্দ এবং ঠিকাদারি বিল—সবকিছু একই সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রাজউকের ম্যানুয়াল ফাইল ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল ট্র্যাকিং চালু, প্রতিটি ফাইলের গতিপথ দৃশ্যমান করা এবং স্বার্থের সংঘাত প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
কারণ একটি নগরীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যখন কয়েকটি ডেস্কের ফাইলনির্ভরতার কাছে আটকে যায়, তখন প্রশ্ন শুধু দুর্নীতির নয়—প্রশ্ন ওঠে রাজউকের প্রশাসনিক জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং নাগরিক আস্থার ভবিষ্যৎ নিয়েও।
এসব অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী ৩য় প্রতিবেদনে। দুদকে ফাইল জমা প্রক্রীয়াধীন রয়েছে।
