বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কাস্টম বন্ড রাসেলের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কাস্টমস-ভ্যাটের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনে অনিয়ম, ঘুষ ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ। বন্ড কমিশনারেটে ৭০–৮০ কোটি টাকা আদায়ের দাবি। ‘হোসেন ডাইং’ অডিটে ৩৫ লাখ টাকার গোপন চুক্তির অভিযোগ। ফাইল ছবি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ন্ত্রণাধীন কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সম্প্রতি পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার রাসেল আল মামুনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। কাস্টমস ক্যাডারের ১১ ব্যাচের এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, চাকরিজীবনের শুরু থেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদে দায়িত্ব পালনকালে রাসেল আল মামুন একটি শক্তিশালী অনিয়ম-সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ঘুষ গ্রহণ, অনৈতিক সুবিধা প্রদান এবং রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি।

বন্ড কমিশনারেটে ৭০–৮০ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত বন্ড কমিশনারেটে দায়িত্ব পালনকালে রাসেল আল মামুনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ওই সময়ে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে তিনি প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা অবৈধভাবে আদায় করেছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

বন্ড ব্যবস্থার বিভিন্ন ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধের নামে প্রিভেন্টিভ টিম নিয়ে রাতের টহল পরিচালনা করা হলেও পরবর্তী সময়ে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ব্যবসায়ীদের ছাড় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বন্ড ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এককালীন অর্থের পাশাপাশি নিয়মিত মাসিক ‘মাসোহারা’ আদায়ের অভিযোগও করা হয়েছে।

সাবেক কমিশনারের ঘনিষ্ঠতার সুযোগে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব?

অভিযোগে আরও বলা হয়, এনবিআরের সাবেক এক সদস্য ও তৎকালীন অবিভক্ত বন্ড কমিশনারের সঙ্গে রাসেল আল মামুনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। মোংলা কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালনের সময় ওই কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি ওই কমিশনারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পান বলে অভিযোগ রয়েছে।

মোংলা কাস্টমসের মাধ্যমে খালাস হওয়া গাড়ির যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন ভারী আমদানিপণ্যে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। পরে ওই কমিশনার ঢাকা বন্ড কমিশনারেটে যোগ দিলে ২০১৮ সালে রাসেল আল মামুনকেও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়ে আসা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে উত্তর বন্ড কমিশনারেটে দায়িত্ব পালনকালে গুলশান ও টঙ্গী এলাকার বন্ডেড ওয়্যারহাউসগুলো থেকেও বিপুল অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীর দাবি, গুলশানের বিভিন্ন ওয়্যারহাউস থেকে মাসে প্রায় এক কোটি টাকা এবং টঙ্গী সার্কেল থেকে আরও ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা আদায় করা হতো।

‘হোসেন ডাইং’ অডিটে ৩৫ লাখ টাকার গোপন চুক্তি

সম্প্রতি ‘হোসেন ডাইং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অডিট নিয়েও রাসেল আল মামুনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অডিট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তিনি ৩৫ লাখ টাকার গোপন চুক্তি করেন। পরে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ফাইল অনুমোদন করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি।

পরবর্তীতে এ বিষয়ে এনবিআরে লিখিত অভিযোগ জমা পড়লে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় এক কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় রাসেল আল মামুনের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি।

কমলাপুর আইসিডিতেও অনিয়মের অভিযোগ

কমলাপুর আইসিডি কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালনকালেও রাসেল আল মামুনের বিরুদ্ধে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে অনৈতিক সুবিধা না দিলে চালান আটকে দেওয়া কিংবা মামলার ভয় দেখানো হতো। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ

দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ রাসেল আল মামুন রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে তাঁর গ্রামের বাড়িতে বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ এবং শত শত শতাংশ জমি কেনার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় প্লট, ফ্ল্যাট ও গাড়ি কেনার পাশাপাশি পিতা-মাতা, ভাই-বোন ও অন্যান্য আত্মীয়ের নামে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, আয়কর নথিতে প্রদর্শিত সম্পদের তুলনায় রাসেল আল মামুনের প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি।

পারিবারিক মামলার অভিযোগও

রাসেল আল মামুনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর পক্ষ থেকে নারী নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মামলাটি চলমান রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকে অভিযোগ, শুরু হতে পারে অনুসন্ধান

অভিযোগগুলোর বিষয়ে এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা এবং রাসেল আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দুদকে দেওয়া লিখিত অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে রাসেল আল মামুনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে গণ্য করা আইনগত ও সাংবাদিকতাগতভাবে সমীচীন নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন জরুরি।

অনিয়মের আদ্যোপান্ত নিয়ে বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী প্রতিবেদনে। চলবে ………

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।