রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রশ্নপত্র তৈরি, ছাপা ও বাঁধাই—সবই এক কক্ষে, তবু ফাঁস! নিয়োগ কমিটির ৫ সদস্য ও ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের ২০ কর্মী ছিলেন কড়া নজরদারিতে, তবু প্রশ্ন বাইরে গেল কীভাবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রার্থীরা – সমতল মাতৃভূমি

সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরি, মুদ্রণ ও বাঁধাই—সব কাজই হয়েছে রাজধানীর দিলকুশায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের একটি নির্দিষ্ট কক্ষে। নিরাপত্তার স্বার্থে কক্ষের বাইরে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ, কর্মীদের মোবাইল ফোন জমা রাখা এবং ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখার মতো সতর্কতাও নেওয়া হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নিয়োগ কমিটির পাঁচ সদস্য এবং প্রশ্নপত্র প্রস্তুত ও মুদ্রণের কাজে যুক্ত ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের ২০ কর্মী। এত কড়াকড়ির পরও কীভাবে প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল, এখন সেই রহস্যের জট খুলতে তদন্ত চলছে।

গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, পরীক্ষার আগের রাতে অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের নির্ধারিত কক্ষে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও ছাপানোর কাজ চলে। প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ওই কক্ষেই অবস্থান করেন। প্রশ্নপত্র তৈরির কাজে নিয়োগ কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান ওএমআরডিএম সিস্টেমের কর্মীরাও যুক্ত ছিলেন।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, কক্ষে উপস্থিত কর্মীদের মোবাইল ফোন আগেই নিয়ে নেওয়া হয়। বন্ধ রাখা হয় ইন্টারনেট সংযোগও। এরপরও রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত স্থগিত করতে হয় বহুল প্রতীক্ষিত নিয়োগ পরীক্ষা।

এখন তদন্তের মূল প্রশ্ন—এত নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও প্রশ্নপত্র বাইরে গেল কীভাবে? নিয়োগ কমিটির কোনো সদস্য, ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের কর্মী, নাকি অন্য কোনো দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সংশ্লিষ্ট তদন্তকারীরা।

পাঁচ সদস্য ও ২০ কর্মীর বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে নিয়োগ কমিটির পাঁচ সদস্য এবং ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান ওএমআরডিএম সিস্টেমের কর্মীদের জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে। তদন্তে সহায়তার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) যুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন সমকালকে বলেন, প্রধান কার্যালয় থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছিল। নিয়োগ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মী কাজ করেছেন। তাঁদের কেউ এ ঘটনায় জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সিআইডি জবানবন্দি নিচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া সমকালকে বলেন, এ পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তাই শুধু প্রশাসনিক তদন্তে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; ফৌজদারি মামলা করে অপরাধীদের শনাক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) তদন্ত করতে পারে। যারা দায়ী, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা জরুরি।

এক কক্ষে ১২টি হাইস্পিড মেশিন, ছিল একটি ল্যাপটপ

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আগেভাগে প্রশ্নপত্র তৈরি করে রাখা হয়নি। পরীক্ষার আগের রাতেই প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ ও প্যাকেটজাত করার কাজ সম্পন্ন করা হয়। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও যুগ্ম সচিব ডি এম আতিকুর রহমান। সদস্য সচিব ছিলেন অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন-১) আতিকুর রহমান। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিজানুর রহমান এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সরকারি কর্ম কমিশনের দুজন প্রতিনিধি। তাঁদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

বহুনির্বাচনী বা এমসিকিউ পদ্ধতির এ পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) পদ্ধতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য দরপত্রের মাধ্যমে ওএমআরডিএম সিস্টেম নামের একটি ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটির মালিক জহাদুর রহমান।

প্রশ্নপত্র প্রস্তুত ও মুদ্রণের কাজে কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি এ প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও যুক্ত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির মালিক জহাদুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘আমরা কর্মী দিতে চাইনি। অধিদপ্তর আমাদের কাছে লোক চেয়ে নিয়েছে। এ জন্য চুক্তিপত্রে ফটোকপি মেশিনের অপারেটর ও বাইন্ডিংয়ের জন্য আলাদা লোক দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় কর্মীরা অধিদপ্তরে যান। রাত ১০টার দিকে তাঁদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় এবং নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশ করানো হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গতরাত ১২টা পর্যন্ত কর্মীরা সেখানে অবস্থান করছিলেন।

সূত্র জানায়, প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপানোর জন্য নির্ধারিত কক্ষে ছিল ১২টি হাইস্পিড ফটোকপি মেশিন ও একটি ল্যাপটপ। ফটোকপি মেশিনগুলো সরবরাহ করেছিল ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান। ল্যাপটপটি ছিল অধিদপ্তরের নিজস্ব। ওই সময় অধিদপ্তরের ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছিল।

প্রশ্নপত্র ছাপানো, ফটোকপি মেশিন পরিচালনা ও বাঁধাইয়ের কাজে ওই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের ২০ কর্মী। তাঁদের মধ্যে ১২ জন মেশিন অপারেটর এবং আটজন বাইন্ডার। মেশিন অপারেটরদের নেতৃত্বে ছিলেন সালাম।

প্রশ্নপত্রের ছবিতে আঙুলের অংশ, ফরেনসিক বিশ্লেষণে সিআইডি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের ছবিটি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ছবিটি দেখে মনে হচ্ছে, কেউ একজন হাতের ওপর প্রশ্নপত্র রেখে ছবি তুলেছেন। এতে আঙুলের সামান্য অংশ দেখা যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিআইডি এখন ছবিতে দৃশ্যমান আঙুলের অংশসহ অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করছে। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ছবি কীভাবে তোলা হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত থাকতে পারেন, সে বিষয়ে সূত্র খোঁজার চেষ্টা চলছে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কারও সম্পৃক্ততা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

নিরাপত্তা ছিল, তবু প্রশ্ন ফাঁস—ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা কোথায়?

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম সমকালকে বলেন, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রথমে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এরপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

তিনি জানান, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার উত্তরপত্র ওএমআর পদ্ধতিতে যন্ত্রের মাধ্যমে মূল্যায়নের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের আলাদা অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল না।

সচিব বলেন, প্রশ্নপত্র তৈরি, কম্পিউটারে টাইপ, মুদ্রণ ও প্যাকেটজাত করার কাজ একটি কক্ষেই করা হয়। হাইস্পিড ফটোকপি মেশিনে প্রশ্ন ছাপানো হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কক্ষের বাইরে যাতায়াতও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। এত সতর্কতার পরও কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হলো, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডির সহায়তা নেওয়া হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের সামনে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—প্রশ্নপত্র তৈরির সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর ছিল কি না, কক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রক্রিয়া কতটা নিয়ন্ত্রিত ছিল, প্রশ্নপত্রের ছবি কখন ও কীভাবে তোলা হয়েছে এবং সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর পেছনে কারা রয়েছেন। এসব বিষয়ে তদন্তের ফলই প্রশ্ন ফাঁসের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।

তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার বিধান বাতিল হয়েছিল কেন?

২০২০ সালের আগে সরকারি দপ্তর, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থার নিয়োগ পরীক্ষা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আহ্‌ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানকে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হতো। সাধারণভাবে এসব প্রতিষ্ঠানকে তৃতীয় পক্ষ বলা হয়।

এ ব্যবস্থায় নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ পদের চাহিদা নির্ধারণ, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, যোগ্যতা যাচাই, ফল অনুমোদন ও নিয়োগপত্র দেওয়ার দায়িত্ব পালন করত। অন্যদিকে, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা আয়োজন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন বা মুদ্রণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ফল প্রস্তুতের কাজ করত।

তবে ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নেওয়ার বিধান বাতিল করে। বাড়তি ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর যুক্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

বর্তমান ঘটনায় প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ একটি নির্দিষ্ট কক্ষে হলেও সেখানে নিয়োগ কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি বেসরকারি ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও যুক্ত ছিলেন। ফলে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার কতটা ছিল, তা তদন্তে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি, প্রতিবেদন দিতে হবে তিন কর্মদিবসে

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন যুগ্ম সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের একজন পরিচালক। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশাসন অধিশাখা) সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

অফিস আদেশে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্ত করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটিকে নিয়োগ পরীক্ষার জন্য গঠিত কমিটির সদস্য, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অভ্যন্তরীণ ও বহিঃস্থ সহায়তাকারীদের বক্তব্য নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

১৬ অক্টোবর ফের পরীক্ষা

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে স্থগিত হওয়া সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এক ঘণ্টাব্যাপী এ পরীক্ষা নেওয়ার কথা রয়েছে।

এখন পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার নজর তদন্তের ফলাফলের দিকে। প্রশ্নপত্র তৈরির কক্ষে কঠোর নিরাপত্তার দাবি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে প্রশ্ন বাইরে গেল, কারও অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত কর্মকাণ্ড এতে ভূমিকা রেখেছে কি না এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর পাওয়া জরুরি।

তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন, দায়ীদের শনাক্ত এবং স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।