বনায়নের নামে ৬৩ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, পিডি বদল ঘিরে আর্থিক সমঝোতার দাবি। গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন ও নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান। ফাইল ছবি
দেড় হাজার কোটি টাকার সুফল (টেকসই বন ও জীবিকা) প্রকল্প’ ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ যেন একের পর এক নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বনায়নের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব, গুরুত্বপূর্ণ পদে পোস্টিং বাণিজ্য, প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তনে আর্থিক সমঝোতার অভিযোগ এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের ঘিরে কথিত ‘মাসোহারা সিন্ডিকেট’—সব মিলিয়ে সরকারি এই প্রকল্পের অর্থ ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
বন কর্মকর্তাদের কয়েকজনের অভিযোগ, প্রকল্পের অর্থ ভাগাভাগি ও কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সাবেক প্রকল্প পরিচালককে (পিডি) সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, সমৃদ্ধকরণ বাগান ও অ-কাঠ বনজ পণ্যভিত্তিক বাগান তৈরির নামে প্রায় ৬৩ কোটি ১০ লাখ ৯৭ হাজার টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাঠপর্যায়ে বাগান না করেই শতভাগ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রকল্পের নথিপত্র, ক্রয়প্রক্রিয়া ও বনায়ন কার্যক্রম নিয়ে তদন্তের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যাচাইয়ের বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।
বনায়নের নামে ৬৩ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ
সুফল প্রকল্পের আওতায় ‘সমৃদ্ধকরণ বাগান’ তৈরির নামে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের নথিতে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অ-কাঠ বনজ পণ্য বা এনটিএফপি (NTFP) ভিত্তিক বাগান তৈরির নামে আরও ১৩ কোটি ১০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
মাঠপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, দেশের কয়েকটি অঞ্চলে কোনো ধরনের বাগান তৈরি না করেই শতভাগ কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। পরে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে এসব খাতের অর্থ তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাদের।
দুটি খাত মিলিয়ে অভিযোগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৩ কোটি ১০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। তবে এসব ব্যয়ের প্রকৃত চিত্র নির্ধারণে প্রকল্পের হিসাব, কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার এবং স্থানভিত্তিক বনায়নের তথ্য যাচাই প্রয়োজন।
পিডি পরিবর্তনের নেপথ্যে আর্থিক সমঝোতার অভিযোগ
বন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সুফল প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক রাকিবুল হাসান মুকুলকে সরিয়ে দেওয়ার নেপথ্যে আর্থিক সমঝোতার বিষয় ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, প্রকল্পের মোট বাজেট থেকে ১০ শতাংশ অর্থ কমিশন হিসেবে দেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ড. গোবিন্দ রায়কে নতুন প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, তার নিয়োগের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের আর্থিক সমঝোতা হয়েছিল।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয়নি।
লাভজনক পদে ‘পোস্টিং বাণিজ্য’
সুফল প্রকল্পের আওতায় বনায়ন ও বাজেট বরাদ্দ বেশি—এমন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন ঘিরে আর্থিক লেনদেনের ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বন কর্মকর্তা।
তাদের ভাষ্য, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, রেঞ্জ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন চেকস্টেশনে পদায়নকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী একটি মহল আর্থিক সুবিধা নিত।
দুদকের অভিযানসংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনেও বন অধিদপ্তরের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে পোস্টিং বাণিজ্যের অভিযোগে কারা জড়িত, কী পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে এবং কোন কোন পদায়নে অনিয়ম ঘটেছে—তা নিশ্চিত করতে তদন্তের ফল ও প্রামাণ্য নথি প্রয়োজন।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা থেকে চেকস্টেশন—মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ
প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, রেঞ্জ ও চেকস্টেশন থেকে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বন কর্মকর্তা।
অভিযোগকারীদের দাবি, দেশের প্রায় ৪৫ জন বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছ থেকে মাসে কয়েক কোটি টাকা, প্রায় ৪২০টি রেঞ্জ থেকে আরও কয়েক কোটি টাকা এবং বিভিন্ন চেকস্টেশন থেকেও নিয়মিত অর্থ নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। তাদের ভাষ্য, কথিত এই ‘মাসোহারা সিন্ডিকেট’-এর মাধ্যমে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হতো।
এ অভিযোগের আর্থিক পরিমাণ, অর্থ লেনদেনের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি ও তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ।
‘বিশেষ বলয়ের’ নিয়ন্ত্রণে প্রকল্প—কর্মকর্তাদের দাবি
২০২০ সালের মার্চে মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী প্রধান বন সংরক্ষকের দায়িত্ব নেন। এরপর তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একটি ‘বিশেষ বলয়’ সুফল প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বন কর্মকর্তা।
অভিযোগে ওই বলয়ের সদস্য হিসেবে আরএসএম মনিরুল ইসলাম, বিপুল কৃষ্ণ দাস, মো. আব্দুল আওয়াল সরকার, মিহির কুমার দে, মো. মাইন উদ্দিন, ড. গোবিন্দ রায় ও জাহেদুল কবিরের নাম এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন বন ও পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় আরএসএম মনিরুল ইসলাম মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও অন্য এক বন কর্মকর্তার ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। প্রধান বন সংরক্ষক তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।
তবে কথিত বিশেষ বলয়ের কার্যক্রম, প্রকল্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ভূমিকা এবং উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রামাণ্য তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য প্রয়োজন।
দুদকের অভিযানে উঠে আসে অনিয়মের তথ্য
সুফল প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বন অধিদপ্তরে অভিযান চালায় দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম। অভিযানে বিভিন্ন নথি সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
একই বছরের আগস্টে প্রকল্পটির দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরুর খবর প্রকাশিত হয়। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও প্রকল্পের বনায়ন কার্যক্রম নিয়ে দুদকের গভীর অনুসন্ধানের কথা এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাগজে দেখানো বনায়ন ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে প্রায় ৩৫০ হেক্টরের ব্যবধান নিয়েও অনুসন্ধান চলছে। এ ব্যবধানের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কোনো আর্থিক অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
তথ্য অধিকার আইনে ১২ ধরনের নথি চেয়েও পাওয়া যায়নি
প্রকল্পের ব্যয়, ক্রয় ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন যাচাইয়ের অংশ হিসেবে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় প্রধান বন সংরক্ষকের দপ্তরে ১২ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নথি চাওয়া হয়।
চাওয়া নথির মধ্যে ছিল—
* মূল ও সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি)।
* প্রতিটি ক্রয় প্যাকেজের দরপত্র ও দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন।
* কার্যাদেশ এবং গাড়ি ও সরঞ্জাম কেনার চুক্তি।
* সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য।
* প্রকল্পের নিরীক্ষা প্রতিবেদন।
* বনায়নের স্থানভিত্তিক তালিকা ও অবস্থান নির্ণায়ক তথ্য।
* বনায়ন কার্যক্রমের উপগ্রহচিত্র।
* নার্সারি থেকে চারা উত্তোলন ও বিতরণের রেজিস্টার।
* বাগানভিত্তিক হিসাব।
* টিস্যু কালচার ল্যাবের উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য।
* প্রকল্পের অর্থছাড়ের বিবরণ।
* সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমোদনসংক্রান্ত নথি।
আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে তথ্য সরবরাহ না করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর একাধিকবার সময় নেয়। এরপরও চাওয়া তথ্যের বড় অংশ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, প্রকল্পের কাজ ও ব্যয় যথাযথ নিয়মে হয়ে থাকলে ক্রয়, বনায়ন এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নসংক্রান্ত নথি প্রকাশে বাধা কোথায়?
তথ্যের গরমিল, জবাব মেলেনি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে
প্রকল্পের অভিযোগের বিষয়ে প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করা হলেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তথ্য অধিকার আইনে চাওয়া নথির বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি শুধু ‘দিচ্ছি, দেব’ বলে সময়ক্ষেপণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুফল প্রকল্পের পরিচালক ড. গোবিন্দ রায়ের সঙ্গেও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে একাধিকবার ফোনকল ও খুদে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার কাছ থেকেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।
নথিতেই মিলতে পারে অনেক প্রশ্নের উত্তর
সুফল প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়ন নিয়ে ওঠা অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরকারি নথিতেই থাকার কথা। একটি গাড়ি বেশি দামে কেনা হয়েছে কি না, তার উত্তর পাওয়া যেতে পারে দরপত্র ও ক্রয়চুক্তিতে। ফটোকপি মেশিনের ক্রয়মূল্য যাচাই করা সম্ভব কার্যাদেশ থেকে।
কোনো বাগান বাস্তবে তৈরি হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে সহায়ক হতে পারে স্থানভিত্তিক তালিকা, অবস্থান নির্ণায়ক তথ্য, মাঠপর্যায়ের ছবি ও উপগ্রহচিত্র। টিস্যু কালচার ল্যাবের কার্যক্রম যাচাই করা সম্ভব উৎপাদন রেজিস্টার থেকে। আর প্রকল্পের অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা অনুসরণ করা যেতে পারে অর্থছাড়ের বিবরণ, হিসাব ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনের মাধ্যমে।
অতএব, তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পরও নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় নথি না পাওয়া এবং বারবার সময় নেওয়ার বিষয়টি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বন রক্ষার প্রকল্পেই যদি বনায়ন থাকে কাগজে!
বন সংরক্ষণ ও টেকসই জীবিকার উন্নয়নের উদ্দেশ্যে নেওয়া প্রকল্পে যদি বনায়ন কেবল কাগজে-কলমে সম্পন্ন দেখানো হয়, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো যথাযথভাবে ব্যবহার না হয়, ক্রয়ে অস্বাভাবিক মূল্য ব্যবধান থাকে এবং নথি চেয়েও তা পাওয়া না যায়—তাহলে প্রশ্ন শুধু আর্থিক অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয় রাষ্ট্রীয় প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির বিষয়টিও।
প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার এই জাতীয় প্রকল্পের মূল ও সংশোধিত ডিপিপি, দরপত্র, ঠিকাদারি বিল, বনায়নের স্থানভিত্তিক তথ্য এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি উঠেছে। বনের জন্য বরাদ্দ অর্থ কোথায় গেছে, কোন খাতে কত ব্যয় হয়েছে এবং বাস্তবে কতটুকু বনায়ন হয়েছে—তার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুদক বলছে, রেকর্ডপত্র সংগ্রহ চলছে
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, দুদক গত বছর ‘সুফল’সহ বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে বন অধিদপ্তরে অভিযান পরিচালনা করে। পরে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করা হয়।
তিনি বলেন, অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা বন অধিদপ্তরের কাছে রেকর্ডপত্র তলব করেছেন। বন অধিদপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
দুদকের অনুসন্ধানে প্রকল্পের ব্যয়, ক্রয়প্রক্রিয়া, বনায়নের বাস্তব চিত্র এবং অভিযোগে উল্লিখিত আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে কী তথ্য উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে সরকারি অর্থের ব্যবহার ও বনায়নের বাস্তব অগ্রগতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তই পারে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করতে।
