সরকারবিরোধী প্রচার, অবৈধ অর্থায়ন ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ; পল্লবী থানায় ডিবি পুলিশের মামলা।সাবেক সেনা কর্মকর্তা দেবাশীষ ও কাজী গুলশান আরা। ছবি-সংগৃহীত
সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ তিনটি আইনি ধারায় করা মামলায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তাঁদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচার, অবৈধ অর্থায়ন, সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের একজন পরিদর্শক বাদী হয়ে রাজধানীর পল্লবী থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, সাইবার সুরক্ষা আইন এবং দণ্ডবিধির ১২৪(ক) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের এজাহার অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও তাঁদের সহযোগীরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সরকারবিরোধী প্রচারণা, তহবিল সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘ইউনিটি কেয়ার পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পলাতক শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রচারের অভিযোগ
মামলার এজাহারে ‘কালআজকাল ডটকম’ নামের একটি পেজের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, ওই পেজের মাধ্যমে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছিল। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে অবৈধ অর্থায়ন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর বিভিন্ন ধারায় অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সহযোগীদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
গুলশান আরার বিরুদ্ধে আরও যেসব অভিযোগ
লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে একাত্মতা ও আনুগত্য প্রকাশের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এ ছাড়া ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ নামে একটি কমিটি গঠন এবং ওই সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে মামলার এজাহারে।
বনানী ডিওএইচএসের বাসা থেকে গ্রেপ্তার
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের পল্লবী জোনাল টিমের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন। বনানী ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে রাত আড়াইটার দিকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে মামলায় আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে গ্রেপ্তার দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে তাঁদের দায় নির্ধারিত হবে।
