ছবি:সংগৃহীত।
বিড়াল শুধু মানুষের প্রিয় পোষ্য নয়, অনেক বছর ধরে মানুষের আশপাশে বসবাস করা পরিচিত প্রাণীও। তবে সব বিড়ালের জীবন কাটে না নিরাপদ আশ্রয়ে। অনেক বিড়াল রাস্তাঘাটে খাবার, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার অভাবে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়। বিড়ালের সুরক্ষা, কল্যাণ ও তাদের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ বাড়াতেই পালিত হয় বিশ্ব বিড়াল দিবস।
প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব বিড়াল দিবস বা গ্লোবাল ক্যাট ডে। ২০২৬ সালেও আজ এই দিবস পালিত হচ্ছে। এই দিনটির মূল লক্ষ্য, বিড়ালকে মানুষের বসবাসের পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধে সচেতনতা তৈরি করা।
বিশ্ব বিড়াল দিবসের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রাণীকল্যাণ সংস্থা অ্যালি ক্যাট অ্যালাইসের নাম। ২০০১ সালে সংস্থাটি ১৬ অক্টোবর ন্যাশনাল ফেরাল ক্যাট ডে চালু করে। মূলত মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এবং খোলা পরিবেশে বসবাস করা বিড়ালদের সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোই ছিল এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
সেই সময় পথবিড়াল ও মানুষের আশপাশে বসবাস করা বিড়ালদের প্রতি অবহেলা এবং তাদের হত্যা করার মতো ঘটনা প্রাণীকল্যাণকর্মীদের উদ্বিগ্ন করেছিল। এই পরিস্থিতিতে বিড়ালের জীবন রক্ষা, তাদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং বিকল্প পরিচর্যার ব্যবস্থা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির প্রয়োজন দেখা দেয়।
পরবর্তী সময়ে এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি পায়। ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবর প্রথমবারের মতো গ্লোবাল ক্যাট ডে উদযাপন করে অ্যালি ক্যাট অ্যালাইস। এর মাধ্যমে দিবসটির পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। পথবিড়ালসহ বিশ্বের সব বিড়ালের সুরক্ষার বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরাই হয়ে ওঠে এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
বিশ্ব বিড়াল দিবসের মূল উদ্দেশ্য শুধু বিড়ালকে নিয়ে আনন্দ উদযাপন নয়। বরং তাদের জীবন রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিড়ালের প্রতি মানুষের দায়িত্বশীল আচরণকে উৎসাহিত করা। পথবিড়াল অনেক সময় খাবারের অভাব, অসুস্থতা, দুর্ঘটনা এবং মানুষের নির্যাতনের শিকার হয়। তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা ও পরিচর্যার সুযোগ তৈরি করা জরুরি। এই দিবসের মাধ্যমে এসব সমস্যা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করা হয়।
এছাড়া পথবিড়ালের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে মানবিক পদ্ধতি হিসেবে ট্র্যাপ-নিউটার-রিটার্ন (টিএনআর) কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে বিড়ালকে নিরাপদে ধরে নির্বীজকরণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর আগের পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এর লক্ষ্য হলো বিড়ালের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তাদের জীবন রক্ষা করা।
বিশ্ব বিড়াল দিবস মনে করিয়ে দেয়, বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা শুধু ঘরে পোষ্য হিসেবে রাখা প্রাণীটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। পথেঘাটে বসবাস করা বিড়ালের প্রতিও মানবিক আচরণ জরুরি। তাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধ করা, অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং নিরাপদে বেঁচে থাকার পরিবেশ তৈরিতে এগিয়ে আসাই এই দিবসের অন্যতম বার্তা।
তাই ১৬ অক্টোবর কেবল বিড়ালকে ভালোবাসার দিন নয়, তাদের সুরক্ষা ও কল্যাণের দায়িত্ব নতুন করে উপলব্ধি করারও দিন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের সঙ্গে বিড়ালের সহাবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং প্রতিটি বিড়ালের জীবনকে গুরুত্ব দেওয়াই বিশ্ব বিড়াল দিবসের মূল তাৎপর্য।
