বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বনের জমিতে অবৈধ স্থাপনার ছড়াছড়ি, ঢাকা বন বিভাগে ডিএফও বশিরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও দখলদারদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১:২৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চন্দ্রা, মৌচাক, রাথুরা ও কাশিমপুর বিটে একের পর এক স্থাপনা নির্মাণ, গাছ কাটার অভিযোগ—উচ্ছেদের পরও পুনর্দখল, প্রশ্নের মুখে বন বিভাগের নজরদারি। ডিএফও বশিরুল। ফাইল ছবি

সরকারি বনভূমি রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাঁদের বিরুদ্ধেই যদি বনভূমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং গাছ কাটায় সহযোগিতার অভিযোগ ওঠে, তাহলে সংরক্ষিত বন রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে কে? ঢাকা বন বিভাগের বিভিন্ন বিটে সরকারি জমি দখল, ঘরবাড়ি ও দোকান নির্মাণ এবং গাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন প্রশ্নই সামনে এসেছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ঢাকা বন বিভাগের ডিএফও বশিরুল। তাঁর বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া এবং বনভূমি দখল ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগও রয়েছে।

অনুসন্ধানে চন্দ্রা, মৌচাক, রাথুরা, কাশিমপুরসহ বিভিন্ন বিটে বনভূমির ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, গাছ কাটা এবং উচ্ছেদ অভিযানের পর পুনরায় দখলের একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। কোথাও টিনশেড ঘর, কোথাও পাকা ভবন, দোকান ও গুদাম নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি ঘটনায় নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং বিভাগীয় তদন্তের নথি ছাড়া কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

চন্দ্রা বিটে ঘরবাড়ি, দোকান ও গুদাম নির্মাণের অভিযোগ

চন্দ্রা স্পিনিং মিল-সংলগ্ন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে কারিগরপাড়ায় আশরাফ হোসেন ইটের দেয়াল তুলে চার কক্ষের একটি অর্ধপাকা ভবন নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চন্দ্রা টাওয়েল টেক্স-সংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমিতে আকাশমণি গাছ কেটে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে তৌহিদুল ইসলাম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে তিনি আবারও রাস্তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

কালিয়াকৈরের ভুলুয়া এলাকায় শাকিলের বিরুদ্ধে চার লাখ ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে বনভূমিতে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। কালামপুরে সামাদ বিট স্টাফদের এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে তিন কক্ষের টিনশেড ঘর তুলেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। কুঁচপাড়ায় দালাল রতনের মাধ্যমে দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে রনজিত পাঁচ কক্ষের ভবন নির্মাণ করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বটতলায় সাবেক ইসমাইল কমিশনারের ছেলের বিরুদ্ধে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে পাকা দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

চান্দরা মৌজায় রিমা নামের এক নারী দুই লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে তিন কক্ষের টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই এলাকায় শাহীন ও মাহবুবের বিরুদ্ধে ছয় লাখ ৭০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে ৪০ হাত লম্বা একটি পাটের গুদাম নির্মাণের অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চন্দ্রা বিটের শিল্প কুঞ্জ পার্কের কাছে মোতালেব ডাক্তার বিট কর্মকর্তা ইকবাল হোসেনকে চার লাখ টাকা দিয়ে পাকা দেয়াল তুলে দোকান নির্মাণ করছেন। সকিনার মোড়ে জাকিরের বিরুদ্ধে দুই লাখ ৩৪ হাজার টাকা দিয়ে ইকবাল, লুৎফর, মামুন ও লতিফকে ম্যানেজ করে পাঁচ কক্ষের ঘর নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর ইকবাল হোসেন লোকদেখানোভাবে ঘরের সামান্য বারান্দা ভেঙে চলে গেলেও মূল স্থাপনা অক্ষত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া চান্দরা খেলার মাঠে শাহিনের মামার পুড়ে যাওয়া ঘর নতুন করে ৩০ থেকে ৪০টি কক্ষের স্থাপনায় রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইকবাল, লুৎফর, মামুন ও লতিফের একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। মাটিকাটা ইনক্রেটেবল ফ্যাক্টরির কাছে সাবেদ ওরফে পীর সাহেবের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা দিয়ে এবং পাশের ভুলুয়া মৌজায় কফিল উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন ওরফে ব্ল্যাক আনোয়ারের বিরুদ্ধে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে ইটের দেয়াল তুলে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।

মৌচাক বিটে ৩৪ দোকান, বনভূমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ

মৌচাক বন বিটের ভান্নারা সাব-বিটের বনফুল বাজারে নতুন করে ৩৪টি অবৈধ দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি দোকানের জন্য ৩০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। আলিফ কম্পোজিট লিমিটেড নামের একটি কারখানার বিরুদ্ধে বনভূমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। উচ্ছেদ ঠেকাতে বিট কর্মকর্তা শাজাহান মিয়ার মাধ্যমে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

মাঝুখান মৌজায় আজিজুল ডাক্তার ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে শত শত গজারি ও আকাশমণি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

রাথুরা বিটে গজারি গাছ কাটার অভিযোগ, বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়ার প্রশ্ন

শ্রীপুর রেঞ্জের রাথুরা বিটেও সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ জুন রাতে রাথুরা বিটের সিএস ১৩৬৯ ও ১৩৭১ দাগ থেকে মোজাম্মেল নামের এক ব্যক্তির কাছে মাত্র আট হাজার টাকায় ১০টি বড় গজারি গাছ কেটে বিক্রি করেন বিট কর্মকর্তা শেখ ইমদাদ হোসেন।

আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর তাঁকে রাথুরা অঞ্চল থেকে সিলেটে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বন সংরক্ষকের গাড়িচালক বিল্লাল ও প্রধান অফিস সহকারী আতিয়ার রহমানের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করে তিনি একই এলাকায় বহাল রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বদলির আদেশ জারি হয়ে থাকলে তা কার্যকর না হওয়ার কারণ কী, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

রাথুরা বিটের বেলতলীতে বশির হোসেনের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বনভূমিতে ঘর নির্মাণ এবং কবরঘাটায় রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে একই ধরনের স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।

কাশিমপুর ও রাজেন্দ্রপুরে বনভূমিতে স্থাপনা, রাস্তা নির্মাণ

কাশিমপুর বিটের মাধবপুরে ইমরান নামের এক ব্যক্তি বিট কর্মকর্তা চান মিয়াকে ম্যানেজ করে দুই কক্ষের একটি হাফ বিল্ডিং নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের নিশ্চিন্তপুরে আউলিয়ার টেক মাজারের সামনে বনজ গাছপালা কেটে কালীগঞ্জের এক প্রভাবশালী ঠিকাদারের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নতুন করে পিচঢালাই রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ করা হয়েছে।

এসব স্থাপনা ও রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে জমির প্রকৃত মালিকানা, বনভূমির সীমানা, অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র যাচাই করা জরুরি। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা শুধু বনভূমি দখলের বিষয় নয়; সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বন সংরক্ষণের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।

১৪ কোটি টাকার বনভূমি উদ্ধার, দুই বছরেই পুনর্দখলের অভিযোগ

সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে মৌচাক বিটের ভান্নারা মৌজায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে জাঁকজমকপূর্ণ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের জমির প্রায় ৭০ শতাংশ উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে কাঁটাতারের বেড়া ও খুঁটি কেটে সেখানে আবারও মার্কেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে।

বনপ্রহরী আমিনুল, জামাল ও মোবারকের সহযোগিতায় রাতের আঁধারে পুনর্দখল চলছে বলে দাবি করা হয়েছে। সরকারি সার্ভেয়ার রনি হোসেন সরেজমিনে জমি পরিমাপ করে জবরদখলের প্রমাণ পেয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। তা সত্ত্বেও গত দুই মাসে কোনো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিট কর্মকর্তা শাজাহান সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে জমি উদ্ধারের পর পুনর্দখলের ঘটনা ঘটে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

বাড়ইপাড়ায় প্রায় এক হাজার বিঘা জমি দখলের অভিযোগ

বাড়ইপাড়া বনবিটে প্রায় এক হাজার বিঘা জমি দখলকে কেন্দ্র করে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শাহ আলম ক্যামেরার সামনে বনভূমিতে ঘর নির্মাণের জন্য বিট অফিসে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের অর্থ, অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা যাচাই করা প্রয়োজন।

একইভাবে আশরাফ নামের আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার কক্ষের পাকা বাড়ি নির্মাণ করে বন বিভাগকে ম্যানেজ করার কথা প্রকাশ্যে বলার অভিযোগ রয়েছে। এসব বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ ভিডিও, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং জমির নথিপত্র যাচাই করা গেলে অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ সহজ হবে।

ডিএফও বশিরুলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বিভিন্ন বিটে ধারাবাহিকভাবে বনভূমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, গাছ কাটা এবং উচ্ছেদের পর পুনর্দখলের অভিযোগের পরও ঢাকা বন বিভাগের তদারকি ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডিএফও বশিরুলের বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মের অভিযোগে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বনভূমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশের দাবি তোলা হয়েছে।

এ ছাড়া বন বিভাগের সরকারি অতিথিশালা আত্মীয়স্বজন নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট নথি, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ, সরকারি অতিথিশালার ব্যবহারসংক্রান্ত রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

বনভূমি রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা নির্ধারণে শুধু উচ্ছেদ অভিযানের প্রচার যথেষ্ট নয়। উদ্ধার করা জমি পুনর্দখল হচ্ছে কি না, গাছ কাটার ঘটনায় মামলা ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে কারা জবাবদিহির আওতায় এসেছেন—এসব প্রশ্নের উত্তরও জনসমক্ষে থাকা প্রয়োজন।

দুদক ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সরকারি বনভূমি রক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে ঢাকা বন বিভাগের চন্দ্রা, মৌচাক, রাথুরা, কাশিমপুর ও বাড়ইপাড়া বিটে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগে উল্লিখিত ঘুষের অঙ্ক, জমির দখল, গাছ কাটার ঘটনা, বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়া এবং উচ্ছেদের পর পুনর্দখলের বিষয়গুলো নথিপত্র ও সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং প্রয়োজন হলে স্বাধীন তদন্ত কমিটির মাধ্যমে অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ডিএফও বশিরুলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অবৈধ দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

বনভূমি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; এটি রাষ্ট্রের সম্পদ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং উদ্ধার করা বনভূমি পুনর্দখলমুক্ত রাখার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।