শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গুলশানের বাড়িধারায় ‘আবেরা’ স্পা সেন্টার ঘিরে নানা অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে নজরদারি

স্টাফ রিপোর্টার
অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ২:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও প্রতারণার অভিযোগ; সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত নিয়েও প্রশ্ন। ফাইল ছবি

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের বাড়িধারায় একটি ফ্ল্যাটে পরিচালিত ‘আবেরা’ নামের স্পা সেন্টারকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্পা ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াতের অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের বৈধতা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশান থানাধীন বাড়িধারার ৫৫ নম্বর সোহরাওয়ার্দী রোডের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে দোলা নামের এক নারী ‘আবেরা’ স্পা সেন্টার পরিচালনা করছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, স্পা সেবার কথা বলে বিভিন্ন গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে তাঁদের অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডে জড়ানোর চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্পা সেবার আড়ালে কী চলছে?

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, গ্রাহকদের সঙ্গে লেনদেন এবং সেখানে যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। স্পা সেন্টারটিতে কী ধরনের সেবা দেওয়া হয়, সেবার মূল্যতালিকা ও অর্থ গ্রহণের রসিদ সংরক্ষণ করা হয় কি না এবং প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্স নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিতে সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সেখানে মাদকদ্রব্যের লেনদেন, সংরক্ষণ কিংবা সরবরাহের মতো কোনো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো যাচাইকৃত তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত প্রমাণ প্রয়োজন।

বাড়িধারার প্রবেশব্যবস্থা নিয়েও বক্তব্য

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা দোলা নামের ওই নারী ব্যবসার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ভাই, আমি এটি দিয়ে কোনোমতে চলি। এখন আগের মতো তেমন ব্যবসাও নেই। এসব প্রতিষ্ঠান চালাতে ব্যয়বহুল খরচ। কোনোমতে দুই-চারটি মেয়েকে রেখে ব্যবসা করি। এ ছাড়া বাড়িধারায় কাস্টমার আসতে চায় না তেমন, আর বাড়িধারায় ঢুকতে সোসাইটির অনুমতি প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা সোসাইটির গার্ডদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে লোকজন প্রবেশ করিয়ে থাকি।

তাঁর বক্তব্যে ব্যবসার ব্যয়, গ্রাহক সংকট এবং এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সোসাইটির অনুমতির প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। তবে তাঁর বক্তব্যে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সব কটির বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

পুলিশকে অবহিত করার পরও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই—অভিযোগ

‘আবেরা’ স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে গুলশান থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে অবহিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ জানানোর পরও সংশ্লিষ্ট স্পা সেন্টারে পুলিশের কোনো দৃশ্যমান অভিযান চোখে পড়েনি বলে অভিযোগকারীদের ভাষ্য। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, অভিযোগগুলো যাচাইয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চলছে কি না।

এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠানকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই ও তদন্ত জরুরি।

বৈধতা যাচাইয়ে প্রয়োজন নথিপত্র

প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বৈধ কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্র পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। ফ্ল্যাটটি কোন ধরনের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত, সেখানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি রয়েছে কি না এবং স্পা সেন্টারটির প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা লাইসেন্স আছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর নথি যাচাইয়ের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

এ ছাড়া ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রবেশপথের ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং প্রতিবেশীদের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেগুলোও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে শুধু স্পা সেবা পরিচালনার কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ বা অপরাধমূলক হিসেবে আখ্যা দেওয়া সমীচীন নয়।

অভিযোগে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অপরাধের তথ্য পাওয়া গেলে তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। কেউ প্রতারণার শিকার হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ জানানো এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় পরিচালিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আইন ও বিধিবিধানের আওতায় থাকা জরুরি। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং অভিযোগের ধরন অনুযায়ী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

‘আবেরা’ স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও অনুমোদন পরীক্ষা এবং কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, পুলিশের অবস্থান এবং কর্তৃপক্ষের যাচাই করা তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।

অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তই হতে পারে এ বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করার উপায়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।