মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভোটার আইডি গোপন রেখে ৮ বছর বয়স কমিয়ে জন্মসনদ! কাঠগড়ায় ডিএসসিসি প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১১:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও জন্মসনদে বয়স কমানোর অভিযোগ • যশোরের স্থায়ী ঠিকানা ও জন্মস্থান, সনদ ইস্যু ঢাকায় • মূল নিবন্ধন আইডির নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ফাইল ছবি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-৯ (ধলপুর) কার্যালয় থেকে এক নারী আবেদনকারীর প্রকৃত বয়সের তুলনায় ৮ বছর কমিয়ে জন্মসনদ ইস্যু করার অভিযোগ উঠেছে। ওই নারীর বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থাকা সত্ত্বেও সেটি গোপন রেখে কিংবা যথাযথভাবে যাচাই না করেই জন্মনিবন্ধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর স্থায়ী ঠিকানা ও জন্মস্থান যশোর সদর উপজেলায় হওয়া সত্ত্বেও ঢাকার জোন থেকে জন্মসনদ ইস্যুর বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের প্রশাসনিক তদারকি, নিবন্ধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবা ব্যবস্থার অপব্যবহারের আশঙ্কা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই না করে আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে জন্মসনদ দেওয়ার অনিয়মও চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য অনিয়মের ব্যাপ্তি নির্ধারণ করা জরুরি।

মূল নিবন্ধন আইডি কার নিয়ন্ত্রণে, প্রশ্ন সেখানেই

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থায় তথ্য এন্ট্রি, যাচাই ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং ব্যবহারকারীর প্রবেশাধিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তির প্রকৃত বয়স পরিবর্তন করে জন্মসনদ ইস্যু করা হয়ে থাকলে, কীভাবে তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে, কোন নথির ভিত্তিতে আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল কার্যক্রম কার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

জোন-৯-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোক্তার হোসেনের দায়িত্বাধীন কার্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটার অভিযোগ ওঠায় তাঁর দপ্তরের প্রশাসনিক নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা কিংবা জ্ঞাতসারে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ের নজরদারি এড়িয়ে কিংবা নিবন্ধন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ অপব্যবহার না করে এমন ঘটনা ঘটানো কঠিন। একই সঙ্গে সহকারী নিবন্ধক নুরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি, অনুমোদনের রেকর্ড, ব্যবহারকারীর কার্যক্রমের ডিজিটাল লগ এবং সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

যশোরের ঠিকানা, জন্মসনদ ঢাকায়—কীভাবে?

অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নারী আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানা ও জন্মস্থান যশোর সদর উপজেলায় হলেও তাঁর জন্মসনদ ইস্যু করা হয়েছে ডিএসসিসির অঞ্চল-৯ কার্যালয় থেকে। এ ক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণের এখতিয়ার, ঠিকানার প্রমাণপত্র, পূর্ববর্তী জন্মনিবন্ধনের তথ্য এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে জন্মসনদের তথ্যের সামঞ্জস্য যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে, বৈধ এনআইডিতে থাকা জন্মতারিখের সঙ্গে নতুন জন্মসনদে উল্লেখ করা জন্মতারিখের মধ্যে আট বছরের ব্যবধানের অভিযোগ সত্য হলে, এর পেছনে কী ধরনের নথি ব্যবহার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কীভাবে আবেদনটি অনুমোদন করেছে—তা অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনের তথ্যের মধ্যে এমন বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়ে থাকলে, তা ভবিষ্যতে পরিচয় যাচাই, সরকারি সেবা গ্রহণ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমেও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই বিষয়টিকে শুধু একটি জন্মসনদ ইস্যুর ঘটনা হিসেবে না দেখে নিবন্ধন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন হিসেবেও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তদন্তের মুখে সম্ভাব্য অনিয়মের চক্র

অভিযোগকারীদের দাবি, অর্থের বিনিময়ে রাষ্ট্রীয় ডেটাবেজে তথ্য পরিবর্তন এবং ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সরকারি জন্মসনদ ইস্যুর মতো অনিয়মের সঙ্গে কোনো চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। এ ঘটনায় কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, হয়ে থাকলে কারা জড়িত এবং কোন পর্যায়ে অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর নথিপত্র ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করতে হবে।

এদিকে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের একটি দল অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রমাণ সংগ্রহ করে শিগগিরই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালামের দপ্তরে উপস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ ও প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।

প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি

এ ঘটনায় কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ভিন্ন জন্মতারিখে জন্মসনদ ইস্যুর অভিযোগ উঠল? যশোরের স্থায়ী ঠিকানা ও জন্মস্থান থাকা সত্ত্বেও ঢাকার কার্যালয় থেকে সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কী কী নথি যাচাই করা হয়েছিল? নিবন্ধন ব্যবস্থার মূল ব্যবহারকারী আইডি ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কারা দায়িত্ব পালন করেছেন? আর অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট অনিয়ম শনাক্ত করতে প্রশাসনিক নজরদারির কোথায় ঘাটতি ছিল?

সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর পদমর্যাদা বা অবস্থান বিবেচনা না করে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশ, তথ্য পরিবর্তন এবং জাল নথির ব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রীয় পরিচয় নিবন্ধন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় অভিযোগটির দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য, জন্মসনদ ইস্যুর মূল নথি এবং ডিজিটাল রেকর্ড যাচাই না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।