শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নির্বাচনে জিতেও কেন বিজয়ীর মতো আচরণ করছেন না নেতানিয়াহু?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ৯:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনা শেষ হলেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক আচরণ বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্টভাবে কারো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও আইনগতভাবে নেতানিয়াহুর অবিলম্বে পদচ্যুত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বিরোধী দলগুলো জোট গঠনে ব্যর্থ হলে নেতানিয়াহুই অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় বহাল থাকবেন। কিন্তু যুদ্ধ, রাজনৈতিক সংকট ও টানা অস্থিরতার মধ্যেও ক্ষমতা ধরে রাখার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি জয়ের উল্লাসের বদলে নির্বাচনকে ‘চুরি’ হওয়া বা অবৈধ বলে দাবি করছেন, যা তার গভীর রাজনৈতিক জটিলতার ইঙ্গিত দেয়।

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে আরব দলগুলো। গত নির্বাচনে নজিরবিহীনভাবে ১৯টি আসন লাভ করা আরব দলগুলোর আসনজয়কে বিদেশি হস্তক্ষেপ ও অবৈধ বলে প্রচার করছেন তিনি। দেশীয় গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেট এবং নির্বাচন কমিশন অনিয়মের এসব দাবি ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করলেও নেতানিয়াহু অনবরত নির্বাচন চুরির অভিযোগ তুলে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এতে তার দুটি মূল উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, ইহুদি ও আরব দলগুলোর সমন্বয়ে বিরোধী জোট গঠনের যেকোনো সম্ভাবনাকে জনগণের চোখে অবৈধ প্রমাণ করা। দ্বিতীয়ত, আগামীতে দ্রুত পুনর্নির্বাচন হলে নিজের ডানপন্থী সমর্থকদের উদ্বুদ্ধ করা এবং আরব ভোটারদের উপস্থিতি কমিয়ে আসনে জয় বাড়িয়ে নেওয়া।

তবে নির্বাচন ঘিরে এই কঠোর অবস্থানের নেপথ্যে নেতানিয়াহুর একটি গভীর ভয়ও কাজ করছে। আইনগতভাবে তিনি ক্ষমতায় টিকে থাকলেও মূলত তার একটি কার্যকর সরকার পরিচালনার শক্তি অনেকটাই নিঃশেষ হয়ে গেছে। ১২০ আসনের সংসদের মধ্যে তার ব্লকের রয়েছে ৫৩টি আসন, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৪০টি আসন স্পষ্ট জায়নবাদী দলের। বাকি ১৩টি আসন আল্ট্রা-অর্থোডক্স ধর্মীয় দলগুলোর, যারা ইসরাইলের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ সংক্রান্ত বিলের চরম বিরোধী। বিপরীতে, কেবল ইহুদি-ভিত্তিক বিরোধী দলগুলোর হাতেই রয়েছে ৪৮টি আসন।

সামরিক বাহিনীতে ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের নিয়োগ ছাড়সংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে নিজের জোটে তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্বে ভুগছেন নেতানিয়াহু। অধিকাংশ ইসরাইলি নাগরিক সবার জন্য সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদানের পক্ষে হলেও আল্ট্রা-অর্থোডক্স ধর্মীয় দলগুলো ছাড় আদায়ে অনড়। নেতানিয়াহুর হাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় তাদের চাহিদামতো আইন পাস করা এখন অসম্ভব। ফলে পরবর্তী নির্বাচনে আসন সংখ্যা না বাড়াতে পারলে নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী পদে থাকলেও একটি কার্যকর সরকার ও প্রধান মিত্রদের সমর্থন হারিয়ে চরম অচল অবস্থার মুখোমুখি হবেন, যা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।