সোমবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চসিকের প্রকৌশলী দম্পতির অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদের পাহাড়, অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আবারো সাবেক কর্মস্থলে

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
নভেম্বর ২৯, ২০২৫ ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সাম্প্রতিক আবারো ঘুরেফিরে সেই ‘মধুর চাকে’ ফিরেছেন সংস্থাটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহিন-উল ইসলাম চৌধুরী। বুধবার (১৩ আগস্ট) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ফিরোজ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে চসিকে বদলি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহীন উল ইসলাম চৌধুরী এবং তার স্ত্রী, সিভিল বিভাগের অঞ্চল–৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী ফারজানা মুক্তা, একাধিক অভিযোগের কারণে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। দীর্ঘদিন ধরে চসিকের প্রকৌশল বিভাগের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা এ দম্পতির বিরুদ্ধে স্থানীয় সূত্র ও সহকর্মীরা অভিযোগ তুলেছেন যে, তারা প্রতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে অঢেল সম্পদ অর্জন করেছেন।

শাহীন উল ইসলাম চৌধুরীর কর্মজীবন শুরু হয় চসিকের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলামের সুপারিশে, যেখানে তিনি শুরুতে নিয়মিত হাজিরার ভিত্তিতে বিল্ডিং সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অস্থায়ী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে সহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে উন্নীত করা হয়। শিক্ষানবিশ অবস্থান থেকে দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে তিনি ২০২৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে দুই ধাপ উপরে উঠে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে নিযুক্ত হন। এ ধরনের অস্বাভাবিক দ্রুত পদোন্নতি সহকর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করে। শাহীন উল ইসলামের কর্মকাণ্ড বিতর্কময়। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় নগরের সড়ক বাতি বন্ধ রাখার ঘটনায় তিনি বিতর্কে জড়ান। এ ঘটনায় তাকে বরিশাল সিটি কর্পোরেটে বদলি করা হলেও সেখানে দায়িত্ব পালনকালে তিনি পদোন্নতি পান। সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে পূর্বে উঠেছে। ২০১৭ সালে এক সংখ্যালঘু কর্মকর্তা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত পেয়েছেন—এমন অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে উচ্চ আদালতের আদেশে তিনি চাকরিতে ফিরে আসেন।

“অভিযোগ রয়েছে যে, শাহীন উল ইসলামের প্রভাবের কারণে তার স্ত্রী ফারজানা মুক্তা অস্থায়ী সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৩ সালে স্থায়ী না হওয়া সত্ত্বেও তাকে ২৫০ কোটি টাকার ‘পরিচ্ছন্ন কর্মী নিবাস নির্মাণ’ প্রকল্পের পরিচালক করা হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পেতে স্থায়ী কর্মকর্তা হওয়া বাধ্যতামূলক এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন। এটি অনুসরণ না করায় দম্পতির পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।দম্পতি চসিকের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসামঞ্জস্য স্পষ্ট। অভিযোগ অনুযায়ী, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট, উচ্চমূল্যের ব্যক্তিগত গাড়ি, সন্তানদের ব্যয়বহুল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষাদান, বোয়ালখালী উপজেলায় বিপুল জমি, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বেনামি ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে। এছাড়া আত্মীয়দের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদ ক্রয় ও অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে।

চসিকের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামও তাদের অনিয়মে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলো সরকারি বা প্রতিষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

স্থানীয় প্রশাসনিক ও প্রকৌশলী সূত্র জানায়, দম্পতির এ ধরনের পদোন্নতি ও সম্পদ বৃদ্ধি সাধারণ নিয়ম ও বিধি মেনে হয়নি। তাদের দীর্ঘদিনের প্রভাবের কারণে প্রকৌশল বিভাগের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, দম্পতির নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

এ ধরনের অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তার স্থানীয় নাগরিক ও প্রশাসনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রকৌশল বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়ন, জনসাধারণের সেবার মান এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় নাগরিকরা দাবি করছেন, এই দম্পতির সম্পদ, বিদেশে বিনিয়োগ এবং সরকারি প্রকল্পে নেতৃত্ব নেওয়া নিয়ে স্বচ্ছতা আনা প্রয়োজন।

শাহীন উল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতেও অসদাচরণ ও পদক্ষেপবিরোধী অভিযোগ উঠেছে। সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধ, অসদাচরণের অভিযোগ, সংখ্যালঘু কর্মকর্তার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং প্রশাসনিক নিয়ম লঙ্ঘন—এই সব বিষয় দম্পতির কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নানা প্রশ্ন তুলে ধরে। ফারজানা মুক্তার স্থায়ী না হওয়া সত্ত্বেও বড় প্রকল্পের পরিচালক হওয়াও এ ধরনের প্রশ্নের অংশ।চসিকের প্রকৌশল বিভাগে এমন ঘটনা নতুন নয়। তবে দম্পতির সম্পদ ও প্রভাবের মাত্রা নজর কাড়ছে। স্থানীয় সাংবাদিক, নাগরিক ও প্রকৌশলী সমাজ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র দ্রুত তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্কতা জানানো হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, দম্পতির সম্পদে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ও জমি, উচ্চমূল্যের গাড়ি, বিদেশে বিনিয়োগ এবং ব্যক্তিগত ও পরিবারিক ব্যয় অন্তর্ভুক্ত। এই সম্পদের উৎস নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিকরা প্রশ্ন তুলছেন। সরকারী সম্পদের ন্যায্য ব্যবহার এবং প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দম্পতির কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

দম্পতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও, এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি বা প্রতিষ্ঠানের তদন্ত হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি সংস্থাগুলো দম্পতির প্রভাব ও সম্পদ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান পেতে যাচ্ছে। তাদের বিদেশে থাকা সম্পদ, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ও জমি এবং সরকারি প্রকল্পের নেতৃত্ব নিয়ে স্বচ্ছতা আনতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগে এ ধরনের ঘটনা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সম্পদ যাচাই প্রক্রিয়ার প্রতি বিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নজরদারিতে এখন দম্পতির কর্মকাণ্ড ও সম্পদ নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। এতে প্রকৌশল বিভাগের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং অনিয়মের সুযোগ সীমিত হবে।

শাহীন উল ইসলাম চৌধুরী ও ফারজানা মুক্তা দম্পতির প্রভাব ও সম্পদ নিয়ে স্থানীয় নাগরিক ও সাংবাদিকরা সর্তক। তারা বলছেন, দম্পতির কর্মকাণ্ডের প্রভাব প্রকৌশল বিভাগ ও চসিকের সার্বিক কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই প্রভাব কমাতে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি।

উল্লেখযোগ্য যে, দম্পতির সম্পদ ও প্রভাব নিয়ে এখনও সরকারি বা আদালত পর্যায়ের কোনো প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। স্থানীয় নাগরিক ও প্রকৌশলী সমাজের দাবি, বিদেশে থাকা সম্পদ, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ও জমি এবং সরকারি প্রকল্পে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না হলে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।চসিকের প্রকৌশল বিভাগে এই দম্পতির কর্মকাণ্ড নতুন নয়, তবে এ ধরনের বিশাল সম্পদ ও প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রশাসনিক পর্যায়ে এই ধরনের অনিয়ম ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত প্রকৌশল বিভাগের স্বচ্ছতা, কার্যকারিতা এবং নাগরিকদের প্রপুনরায় প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে।

শাহীন উল ইসলাম চৌধুরী এবং ফারজানা মুক্তার কর্মকাণ্ড স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক এবং সাংবাদিকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়। তারা বলছেন, দম্পতির বিদেশে থাকা সম্পদ, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ও জমি এবং সরকারি প্রকল্পে নিয়োগের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

এছাড়া দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা বিষয়গুলো প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া, সম্পদ যাচাই এবং সরকারি প্রকল্পে দায়িত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি লঙ্ঘন করেছে। স্থানীয় নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে প্রকৌশল বিভাগে আরও অসংখ্য অনিয়মের পথ খোলা থাকবে। দম্পতির কর্মকাণ্ড ও সম্পদ নিয়ে স্থানীয় নাগরিক, সাংবাদিক এবং প্রকৌশলী সমাজ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারী সংস্থা এখন দম্পতির সম্পদ, বিদেশে বিনিয়োগ এবং প্রকল্পে নেতৃত্ব গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন অনুভব করছে।

নাগরিকরা বলছেন, দম্পতির বিদেশে থাকা সম্পদ, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ও জমি এবং সরকারি প্রকল্পে দায়িত্ব নেওয়া নিয়ে স্বচ্ছতা আনতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র আরও ভয়াবহ হবে। এ ধরনের পদক্ষেপ প্রকৌশল বিভাগের স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা এবং নাগরিকদের প্রতি আস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক হবে।

চসিকের প্রকৌশল বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে দম্পতির প্রভাব ও সম্পদের বিস্তার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং প্রকৌশল বিভাগের কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নজরদারি ও তদন্তের মাধ্যমে দম্পতির কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনাই এখন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।