রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অবরুদ্ধ সমতল মাতৃভূমি
মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘ভুল’ চিকিৎসায় সিফাত নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দুই ঘণ্টা হাসপাতাল অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ জনতা। খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার জাবির হুসনাইন সানীব ও মতলব দক্ষিণ থানার ওসি সালেহ আহাম্মদ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে সিফাত (২০) তাঁর মায়ের সঙ্গে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যায়। পরে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে রোগীর চাপ থাকায় বারান্দায় চিকিৎসা চলে তাঁর। মাগরিব নামাজের কিছুক্ষণ আগে স্যালাইন শেষ হলে সিফাত হেঁটে বাথরুমে যায়। বাথরুম থেকে বের হয়ে আসার পর মাথা ঘুরে পড়ে যায়। সে সময় তাঁর স্বজনের চিৎকারে নার্স ছুটে যায় এবং চিকিৎসককে খবর দেয়। পরে চিকিৎসক রতন চন্দ্র দাস রোগীর ওয়ার্ডে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর সিফাতকে জরুরি বিভাগে নিয়ে ইসিজি করান এবং মৃত ঘোষণা করেন।
ভুল’ চিকিৎসায় সিফাতের মৃত্যু হয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর সহপাঠী ও বিক্ষুব্ধ জনতা দুই ঘণ্টা হাসপাতাল অবরুদ্ধ করে রাখে। সিফাতের মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর উদ্যোগ নিলে তাঁর সহপাঠীরা লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের দাবি তোলেন। পরে সিফাতের বাবার লিখিত সম্মতির ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
মৃত সিফাত চরমুকন্দি গ্রামের শরিফ খানের একমাত্র ছেলে। তার ছোট দুই বোন রয়েছে। সিফাত মতলব ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
গতকাল মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম রায়হান জানান, তিনি স্টেশনে নেই। শুনেছেন যে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে। তবে ফোনে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন ভুল চিকিৎসা বা দায়িত্বে অবহেলা ছিল না।
মতলব দক্ষিণ থানার ওসি সালেহ আহাম্মদ বলেন, সিফাতের মৃত্যু নিয়ে তাঁর বাবার কোনো অভিযোগ নেই। তাঁর বাবা শরীফ খানসহ এলাকার লোকজন আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার আবেদন করেছেন।
