বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলমের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিসেম্বর ৮, ২০২৫ ১১:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজনৈতিক প্রভাব, সিন্ডিকেট গঠন ও ঠিকাদারি বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম এর বিরুদ্ধে। গোটা গণপূর্তে শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র গড়ে সিনিয়র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনঠাসা করে রাখার অভিযোগ ব্যাপকভাবে চাউর হলে বদরুল এর মুখোশ উন্মোচন হয়। তবে নিজেকে সুশীল সাজতে ঘটনার আদ্যোপান্ত অস্বীকার করেছেন তিনি।

গণপূর্ত অধিদফতরের সাভার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানকে ঘিরে একাধিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ উঠেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আগে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ এবং সাবেক মন্ত্রী মুক্তাদির চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজেকে সচিবের ঘনিষ্ঠ দাবি করে তিনি গণপূর্তে প্রভাব বিস্তার অব্যাহত রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা পোস্টিং–এ সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ-

অভিযোগ অনুযায়ী, বদরুল আলম ক্ষমতাসীনদের ছত্রচ্ছায়ায় ঢাকা পোস্টিং নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করেন। সারা দেশের বিভিন্ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীদের ফোন দিয়ে তার মনোনীত ঠিকাদারদের কাজ দিতে চাপ প্রয়োগ করতেন।

আসিফ নামে এক ঠিকাদারকে বিভিন্ন ডিভিশনের কাজ পাইয়ে দিতে বদরুল আলম নিয়মিত ফোনে চাপ দিতেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ভাষানটেকসহ একাধিক থানার নির্মাণকাজও ইতোমধ্যে ওই ঠিকাদার পেয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আসিফ বদরুল আলমের ব্যবসায়িক পার্টনার।

বর্তমান সচিব নজরুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর বদরুল আলম আবার নিজেকে জামায়াতে ইসলামীপন্থী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

টেন্ডার প্রক্রিয়া এড়িয়ে প্রকল্প পরিচালনার অভিযোগ-

*মিরপুর পাইকপাড়া আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পে *আরবরিকালচার কাজ যথাযথ বিভাগ বাদ দিয়ে মিরপুর বিভাগ থেকে টেন্ডার করার অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হলেন বদরুল আলম।

এছাড়া পুলিশের ১০৭ থানার নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ভাষানটেক থানার কাজও তিনি নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধান প্রকৌশলীকে সরানোর অপচেষ্টা : গণপূর্ত অধিদফতরে বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার প্রতিযোগিতায় থাকা তিনজন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ রেখে নিজ স্বার্থে কাজে লাগানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সূত্র বলছে,সিন্ডিকেটটি ডিসেম্বরের মধ্যেই বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে— এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। এতে মাস্তান ভাড়া করে অফিস ঘেরাও, অপছন্দনীয় পোস্টিং পাওয়া কর্মকর্তাদের একত্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি, ও কর্মচারী ইউনিয়নকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে সম্পৃক্ত করার মতো পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।

এসব কারণে বদরুল আলম নিয়মিত অফিস করেন না, সাইট পরিদর্শনেও যান না। প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তিনজন প্রকৌশলীর সাথে গোপন বৈঠক করেন— এমনটিও অভিযোগের তালিকায় রয়েছে।

রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত বিতর্ক : বদরুল আলমের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় হলেও তার স্থায়ী ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া। এলাকায় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে জানা যায়। বুয়েটে পড়াকালীন ছাত্রদলের পদে না থাকলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও ব্যাপক ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ রয়েছে।

চাকরির শুরু থেকেই ভাইয়ের সঙ্গে ডেভেলপার ব্যবসায় জড়িত ছিলেন তিনি। যা ১৭(১) ও ১৭(৩) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।ভোলায় নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় তোফায়েল আহমেদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে ঢাকা পোস্টিংয়ের তদবির করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার : অভিযোগগুলো জানতে চাইলে প্রকৌশলী বদরুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, এসব অভিযোগ গণপূর্তে আমার প্রতিপক্ষের বানোয়াট তথ্য। আমি কখনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করিনি।”

একই দফতরে কাজ করেও প্রতিপক্ষ কেমন করে সৃষ্টি হয়— এ প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি তিনি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ