বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

“নৌকার ব্যাজ পরেই দাপুটে চলাফেরার অভিযোগ বরিশাল গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে”

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫ ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বরিশাল গণপূর্ত বিভাগে বিতর্ক যেন থামছেই না। বিভাগটির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলমের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার, অনিয়ম–দুর্নীতি এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরেও বহাল তবিয়তে থাকায় গোটা গণপূর্তে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অঘোষিত দুর্নীতি চালিয়ে নির্বিঘ্নে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা হয়েও দীর্ঘদিন তিনি প্রকাশ্যে নৌকার ব্যাজ লাগিয়ে চলাফেরা করেছেন এবং নিজেকে আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করতেন। সরকার পরিবর্তনের পরও তিনি পদ ও প্রভাব ধরে রাখতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। একই সঙ্গে নিজেকে ভিন্ন রাজনৈতিক ঘরানার সঙ্গে সম্পৃক্ত দেখানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি), বরিশালের নবগঠিত কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পান ফয়সাল আলম। এ নিয়েও প্রকৌশলী ও ঠিকাদার মহলে আলোচনা–সমালোচনা চলছে।

অতীত ও অভিযোগের প্রেক্ষাপট-

অনুসন্ধানে জানা যায়, ৩২তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। ঝালকাঠিতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময় নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া, কমিশন বাণিজ্য এবং নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রমের অভিযোগে সাধারণ ঠিকাদারদের সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। তবে অপকর্ম আড়াল করতে ঝালকাঠি থেকে বদলি হয়ে বরিশালে যোগদানের পরও একই ধরনের অনিয়ম অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ঠিকাদার। তাদের দাবি, খান বিল্ডার্স, ও খান ট্রেডার্স নামের দুটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম ভেঙে একচেটিয়াভাবে শত শত কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। বিনিময় ব্যাপকভাবে নিজের ফায়দা লোটার কৌশল অবলম্বন করছেন।

একাধিক ঠিকাদারদের বক্তব্য : গণপূর্তের সাধারণ ঠিকাদার আব্দুর রহিম বলেন, “ঝালকাঠিতে থাকার সময় যেমন অনিয়মের অভিযোগ ছিল, বরিশালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নিয়ম ভেঙে নির্দিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হচ্ছে।”

আরেক ঠিকাদার তসলিম মৃধা অভিযোগ করেন, “সরকারি কর্মকর্তা হয়ে তিনি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক পরিচয় বহন করতেন। এখনো গোপন সমঝোতার মাধ্যমে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিচ্ছেন।”

টেন্ডার নিয়ে বিতর্ক : সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বরিশালের একাধিক মডেল মসজিদসহ কয়েকটি প্রকল্পের টেন্ডারে ওয়ার্ক ক্যাপাসিটি না থাকায় আগে দরপত্র বাতিল করা হলেও পরবর্তীতে যৌথ উদ্যোগ (জেবি) দেখিয়ে একই প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এতে টেন্ডার শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে অভিযোগ সাধারণ ঠিকাদারদের।

এ নিয়ে একাধিক বার গণপূর্ত কার্যালয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে ঠিকাদারদের বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বিরোধিতাকারীদের লাইসেন্স বাতিলের হুমকিও দিয়েছেন এ প্রকৌশলী।

দুই পক্ষের বক্তব্য- নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম উল্টো সাংবাদিকদের বলেন, “কয়েকজন ঠিকাদার আমার কার্যালয়ে এসে হুমকি দিয়েছেন।”

অন্যদিকে ঠিকাদার এটিএম আশরাফুল হক রিপন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি শুধু ওয়ার্ক ক্যাপাসিটি না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো টেন্ডারে অংশ নিচ্ছে—সে প্রশ্ন তুলেছি। কাউকে লাঞ্ছিত করা হয়নি।”

যোগাযোগের চেষ্টা- এসব অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, বরিশাল গণপূর্ত বিভাগে ওঠা এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।

উল্লেখ্য, ফয়শাল আলম এর বুকের ডান পাশে নৌকার ব্যাজ লাগানো দেখা যাচ্ছে। অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই।নৌকার ব্যাজ ধারণ করে দুর্নীতির শীর্ষে রয়েছেন সেটি দৃশ্যমান। ফয়শাল আলম এর লাগাম টেনে ধরার এখন উপযুক্ত সময়। বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী সংখ্যায়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ