বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ নিরুত্তাপ ভোটের মাঠে আলোচনায় জামায়াতের হিন্দু প্রার্থী “আওয়ামী লীগ ও হিন্দুদের ভোটব্যাংকে নজর প্রার্থীদের”

সমতল মাতৃভূমি ডেস্ক
ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫ ৩:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কৃষ্ণ নন্দী

চারটি দলের কেন্দ্রীয় চার শীর্ষস্থানীয় নেতা খুলনা থেকে প্রার্থী হচ্ছেন। তবে অনেকটা নিরুত্তাপ ভোটের মাঠ। এরই মাঝে আলোচনার জন্ম দিয়েছে খুলনা-১ আসনে জামায়াতের হিন্দু প্রার্থীর বিষয়টি। দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে একমাত্র খুলনাতেই দলের সনাতন শাখা থেকে কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী করার ষোষণা দিয়েছে জামায়াত।

জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রার্থী হচ্ছেন খুলনা-৫ আসনে। সিপিবির সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স খুলনা-২ আসনে, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব হাফেজ ইউনুছ আহমাদ ও খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন খুলনা-৪ আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছেন। বিএনপির হেভিওয়েট নেতাদের কেউ খুলনায় প্রার্থী হচ্ছেন না।

ভোটাররা জানান, হিন্দু অধ্যুষিত খুলনা-১ ও খুলনা-৫ আসনে ভোটের ফলে প্রভাব তৈরি করবে সনাতন ধর্মের মানুষ। আসন দুটির প্রার্থীদের বাড়তি নজর তাই হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের দিকে। অন্য চারটি আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট টানতে তৎপর প্রার্থীরা।

সুন্দরবনঘেঁষা দাকোপ ও মহানগরঘেঁষা বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে খুলনা-১ আসন। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী দাকোপের ৫৪ শতাংশ মানুষ সনাতন ধর্মের অনুসারী। বটিয়াঘাটায় এই হার ২৭ শতাংশ। বিগত প্রতিটি নির্বাচনেই আসনটি থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির। বিজয়ী প্রার্থীদের বেশির ভাগই ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের।

আসনটিতে বাম দলের কিছুটা প্রভাব থাকলেও জামায়াতের অবস্থান ছিল বরাবরই দুর্বল। ১৯৯৬ সালে জামায়াতের প্রার্থী শেখ মো. আবু ইউসুফ দুই হাজার ৩০৮ ভোট পান। এরপর জামায়াত আসনটিতে আর প্রার্থী দেয়নি। এবার শেখ আবু ইউসুফকে আবারও প্রার্থী করার কথা বলেছিল জামায়াত। গত ৩ ডিসেম্বর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে জামায়াতের ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী করার ষোষণা দেওয়া হয় । ইতোমধ্যে এলাকায় প্রচার শুরু করেছেন তিনি। তাঁর কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানোর পর আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

কৃষ্ণ নন্দী বলেন, ‘আমাকে প্রার্থী করায় হিন্দুদের মধ্যে জামায়াতের পক্ষে জোয়ার তৈরি হয়েছে। এতে ভীত হয়ে এআই দিয়ে ছবি তৈরি করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে। যেভাবে মানুষের সাড়া পাচ্ছি, আশা করছি বিজয়ী হবো।’

আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান। ২০০১ সাল থেকে তিনি এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন সময় ভোট করেছেন। এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে তাকেই সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী মনে করছেন অনেক ভোটার। আমীর এজাজ খান বলেন, ‘অতীতে পরাজিত হলেও মাঠ ছাড়িনি। মানুষের জন্য কাজ করে গেছি, এ জন্য প্রতিবারই ভোটের ব্যবধান কমেছে। এবার আমি বিজয়ী হবো।’

এই দুজন ছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা আবু সাঈদ, এনসিপির ওয়াহিদ উজ জামান, গণসংহতি আন্দোলনের আল আমিন শেখ এবং বাম জোটের কিশোর কুমার রায় প্রচারণা চালাচ্ছেন।

খুলনা সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, মানুষ ভালো একটি পরিবেশে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। গত কয়েক মাসে সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডে মানুষ আতঙ্কিত। সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মীদের অসহিষ্ণু আচরণ ভোট নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এ অবস্থায় মানুষের মাঝে আস্থা ফেরানোই মূল কাজ।

খুলনার পাঁচটি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মো. আ স ম জামশেদ খোন্দকার। তিনি বলেন, প্রার্থীরা আচরণবিধি মেনে ফেস্টুন-বিলবোর্ড সরিয়ে নিয়েছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সবাই একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

খুলনা-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন নির্বিঘ্ন এবং উৎসবমুখর করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।খুলনা-২ : খুলনা মহানগরীর সদর ও সোনাডাঙ্গা নিয়ে খুলনা-২ আসন। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত নির্বাচনগুলোতে এখানে বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হন। এবার বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন ২০০৮ সালে বিজয়ী নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী মহানগর সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। তিনি কেসিসির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘অংশগ্রহণমূলক প্রতিটি নির্বাচনে খুলনার মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে। বিএনপিও তার প্রতিদান দিয়েছে। এবারও ব্যতিক্রম হবে না।

জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চাইছে, নতুন করে ভাবতে শিখেছি। কাঙ্ক্ষিত সেই পরিবর্তন আমরাই করতে পারব।’

এ আসনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, এনসিপির মো. ফরিদুল হক, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি আমান উল্লাহ, গণসংহতি আন্দোলনের মুনীর চৌধুরী সোহেল প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

খুলনা-৩ : নগরীর খালিশপুর, দৌলতপুর, খানজাহান আলী থানার একাংশ নিয়ে খুলনা-৩ আসন। অতীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই জিতেছে। এবারও বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী মহানগর আমির মাহফুজুর রহমান। নির্বাচনে এই দুই দলের প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন।

রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘এলাকার মানুষ মৃত শিল্পনগরীকে পুনরুজ্জীবিত দেখতে চায়। বিএনপি সেটা করতে পারবে। ভোটাররাও সেই কথা বলছে।’

মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘প্রচারণায় গিয়ে মানুষের মধ্যে অন্যরকম উচ্ছ্বাস দেখছি। সবাই বলছে, অনেককেই ভোট দিয়েছি। এবার আপনাদের দিয়ে দেখতে চাই।’

আসনটিতে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যক্ষ আবদুল আউয়াল প্রার্থী হচ্ছেন। ২০২৩ সালের কেসিসি নির্বাচনে তিনি ৬০ হাজারের বেশি ভোট পান। কেন্দ্রীয়ভাবে বর্জন করায় বিএনপি ও জামায়াত ওই নির্বাচনে মেয়র পদে কোনো প্রার্থী দেয়নি।

খুলনা-৪ : রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৪ আসন এককভাবে কোনো দলের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। আসনটিতে এবারও বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী খুলনা জেলা কমিটির নায়েবে আমির কবিরুল ইসলাম।

আসনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব হাফেজ ইউনুস আহমাদ এবং খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন প্রার্থী হচ্ছেন। জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসের একজোটে নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। ঐকমত্য হলে আসনটিতে হেলালের বিপরীতে কে প্রার্থী হন সেটাই দেখার অপেক্ষায় স্থানীয়রা।

আজিজুল বারী হেলাল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষ অবহেলিত। এলাকার উন্নয়নের জন্য তারা বিএনপিকে ভোট দেবে।’

কবিরুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি থেকে বাঁচতে ইসলামের দিকে ঝুঁকছে। ভোটেও এর প্রভাব পড়বে।’

খুলনা-৫ : ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৫ আসনে অংশগ্রহণমূলক কোনো নির্বাচনেই বিএনপি বিজয়ী হয়নি। আসনটি বেশির ভাগ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতারা বিজয়ী হন, ২০০১ সালে এই ‘প্রথা’ ভাঙেন জামায়াতের মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি এখন দলের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি এবারও প্রার্থী হয়েছেন।

এ আসনটিতে বিএনপি প্রার্থী করেছে খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলী আজগর লবীকে। তিনি খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

এ আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার ৩৫ শতাংশ ভোটার হিন্দু সম্প্রদায়ের। এ কারণে হিন্দু ভোটের দিকে নজর বেশি প্রার্থীদের।

খুলনা-৬ : কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসনে বিএনপি সর্বশেষ জয় পেয়েছিল ১৯৭৯ সালে। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে আসনটিতে জামায়াত বিজয়ী হয়। অন্য নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগ জয় পায়। আসনটিতে এবার বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী। তাঁর বাড়ি রূপসা উপজেলায়।

জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। তিনি কয়রা সদরের বাসিন্দা। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি অংশ নেন। আসনটিতে এই দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।