গত নভেম্বর মাসে খুলনা মহানগরীতে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে আটটি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ১৬ মাসে এই সংখ্যা ৫১। প্রায়ই গুলি, কুপিয়ে জখমসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। এসব ঘটনায় সম্পৃক্ত অধিকাংশ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ, ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার হয়নি। খুলনার সার্বিক পরিবেশ নিয়ে শঙ্কিত প্রার্থী ও ভোটাররা।
এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবার আগেভাগেই মহানগরীর ভোটকেন্দ্রগুলোর ঝুঁকি যাচাই করেছে পুলিশ। এতে ৩০৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭৯টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ১২৮টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, ৬৭ শতাংশ ভোটকেন্দ্রেই ঝুঁকি দেখছে তারা।
খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) সদরদপ্তর থেকে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে মহানগরীর ভেতরের ভোটকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে ঝুঁকি বিবেচনার জন্য থানার ওসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়। মহানগর পুলিশের আটটি থানার ওসি গত মাসে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, খুলনার ছয়টি আসনে ভোটকেন্দ্র ৮৪০টি। এর মধ্যে মহানগরীর ভেতরে ৩০৯টি। খুলনা-২ ও খুলনা-৩ আসনের সব ভোটকেন্দ্রই মহানগরীর ভেতরে। এর বাইরে খুলনা-১ আসনের ১৫টি এবং খুলনা-৫ আসনের ২২ কেন্দ্র পড়েছে নগরীর সীমানায়। এসব এলাকার সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শুধু মহানগরীর কেন্দ্রগুলোর ঝুঁকি আগে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) ত ম রোকনুজ্জামান জানান, আগে ওই কেন্দ্রে কখনও গোলযোগ হয়েছে কিনা, কোনো কারণে অতীতে ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়েছে কিনা, কেন্দ্রটি কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ির আশপাশে কিনা, ভোটকেন্দ্রটি দুর্গম এলাকায় কিনা, কেন্দ্রের চারপাশে সীমানা প্রাচীর অথবা নির্বিঘ্নে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে কিনা, অপরাধ করে দ্রুত সটকে পড়ার আশঙ্কা কেমন– এসব বিবেচনায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ তালিকা করা হয়।
খুলনা সদর থানা এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলো যাচাইয়ের সময় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হাওলাদার সানোয়ার হোসাইন মাসুম। বর্তমানে তিনি খানজাহান আলী থানার ওসি। সমকালকে মাসুম বলেন, সদরদপ্তরের নির্দেশনার আলোকে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
খুলনা-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের বলেন, ‘দুশ্চিন্তার কিছু নেই। নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন এবং উৎসবমুখর করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সেভাবেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
খুলনা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, ভোটকেন্দ্র ও ভোটের পরিবেশ নিয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। এবার ভোটকেন্দ্রে যেসব পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, কয়েক মাস আগে থেকেই তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এখনও প্রশিক্ষণ চলছে। ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ যেন না হয়, সে জন্য করণীয়, গোলযোগ হলে কী করতে হবে– এসব বিষয়ে বিশদভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আগে এ ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না।
পুলিশ কমিশনার বলেন, খুলনার ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে ১৪১টিতে নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। বাকিগুলোতে ক্যামেরা সংযোজন করা হবে। এ ছাড়া পুলিশ সদস্যদের কাছেও ক্যামেরা থাকবে। যে কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাবেন এবং ভিডিও পাঠাবেন। নির্বাচন নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।
