মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। আজ রোববার ফ্লোরিডায় এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি আমেরিকার মধ্যস্থতায় তৈরি শান্তি পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা করতে চান। তবে রাশিয়া এই পরিকল্পনাকে তাদের নিজস্ব আলোচনার চেয়ে অনেক আলাদা বলে মনে করছে।
বিবিসির খবর অনুসারে, জেলেনস্কি প্রস্তাব দিয়েছেন, রাশিয়া যদি তাদের সেনা সরিয়ে নেয়, তবে ইউক্রেনও দোনবাস অঞ্চল থেকে সেনা সরিয়ে নেবে। ক্রেমলিন এখনও এই প্রস্তাবের কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
শান্তি আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন স্থানে রাশিয়ার বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালিয় ক্লিচকো জানান, ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা প্রতিহত করছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
গতকাল সকালেও হামলা চলে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, সারাদেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা রয়েছে। ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে রুশ বিমান হামলায় দুজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনাটির প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা একটি দিনও নষ্ট করছি না। নতুন বছরের আগেই অনেক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।
অন্যদিকে, ট্রাম্প একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাঁর অনুমোদন ছাড়া জেলেনস্কি কিছুই করতে পারবেন না। তবে তিনি ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনার ব্যাপারে আশাবাদী।
ক্রিসমাসের দিনেও ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেলেনস্কির দীর্ঘ আলাপ হয়েছে। এর আগে ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির সম্পর্ক কিছুটা তিক্ত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের আলোচনা বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ হচ্ছে। রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন, যদিও তিনি ইউক্রেনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সব মিলিয়ে আজকের বৈঠকটি যুদ্ধ থামানোর ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
