দুদকের তদন্ত দল। ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত দল অভিযান চালিয়েছে।
বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান শেষে দুদকের চট্টগ্রাম-১ সহকারী পরিচালক ও টিম লিডার সায়েদ আলম সাংবাদিকদের জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহ্ইয়া আখতারের আমলে হওয়া বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
দুদকের পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ-
দুদক কর্মকর্তাদের মতে, ফার্সি, ফিন্যান্স এবং ক্রিমিনোলজি বিভাগে শিক্ষকদের আত্মীয়দের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুলের অধ্যক্ষ নিয়োগেও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম বলেন, আমরা নথিপত্র পর্যালোচনা করছি। ফার্সি বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশ ছিল না বলে প্রাথমিক রেকর্ডে দেখা গেছে। তবে নম্বর শিট না পাওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বৈধ ছিল কি না, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় হওয়া নিয়োগগুলোর রেকর্ডপত্রও যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হবে এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সর্বশেষ ১৮ জন শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। সব নিয়োগ নতুন নয়, কিছু স্থায়ীকরণ করা হয়েছে। মোট কতজন নিয়োগ হয়েছে, তা রেকর্ড দেখে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য-
অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামিম উদ্দিন খান। তিনি দাবি করে বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অসততা হয়নি।
উপ-উপাচার্য বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকিছুই স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। আগে অনেক অনুমোদনহীন নিয়োগ ছিল, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর সেগুলো ইউজিসির শর্ত মেনে স্থায়ীকরণ করছি। প্রতিটি নিয়োগ সততার সাথে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নাট্যকলা, সংগীত ও স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে লোকবল সংকট তীব্র। জনবল না দিলে শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে যাবে। ছাত্রদের চাপের মুখেও আমরা নিয়ম মেনে শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি।
ফার্সি বিভাগের নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০২১ সালে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শিরিন আখতারের আমলে এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। বোর্ড হওয়ার আগে কথোপকথন ভাইরাল হওয়ায় তখন নিয়োগ স্থগিত ছিল, যা বর্তমান প্রশাসন সম্পন্ন করেছে।
অভিযানে যারা ছিলেন
দুদকের এই অভিযানে টিম লিডার সায়েদ আলমের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-সহকারী পরিচালক হামেদ রেজা এবং উপ-সহকারী পরিচালক সবুজ হোসেন।
দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপাচার্য ক্যাম্পাসে ফেরার পর আরও কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করা হবে। এরপরই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব হবে।
