নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে দলীয় অবস্থান কী হবে তা আগামীকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে জানাবে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে বৈঠকের পর দলটির পক্ষ থেকে এ বার্তা জানানো হয়।
জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপিসহ ১১ দলের নির্বাচনী ঐক্যের একক প্রার্থী ঘোষণায় বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনে ডাকা হয়।
আমন্ত্রণ জানানো হলেও এতে যোগ দেননি ইসলামী আন্দোলনের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনের আগে জামায়াত কার্যালয়ে বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী-১৭৯, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০, এলডিপি-৭, খেলাফত মজলিস ১০, নেজামী ইসলাম পার্টি ২, এবি ৩ এবং বিডিপি ২ জনসহ ২৫০ প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হয়।
জাগপা এবং খেলাফত আন্দোলন জোটে থাকলেও, নির্বাচনে তাদের প্রার্থী থাকবে না। এই দুই দল থেকে একজন করে নেতা জোটের সমর্থনে ভবিষ্যতে উচ্চকক্ষের এমপি হবেন। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন ৫০টি আসন রাখা হয়েছে।
আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের মতবিরোধ চলছে সপ্তাহ তিনেক ধরে। ইসলাম আন্দোলনকে সর্বোচ্চ ৪৫টি আসন ছাড়তে রাজি হয়েছে জামায়াত। তবে চরমোনাইয়ের পীর অন্তত ৬৫টি আসন চান। এ নিয়ে বিরোধের কারণে গতকাল বুধবার জামায়াত সংবাদ সম্মেলন ডেকেও তা স্থগিত করে। একই দিনে ইসলামী আন্দোলন আভাস দিয়েছিল ১১ দলের কয়েকটি শরিক দলকে নিয়ে পৃথক জোট গঠন করতে পারে তারা।
তবে বৃস্পতিবার দুপুরে ইসলামী আন্দোলন বাদে বাকি ১০ দলের নেতারা জামায়াত কার্যালয়ে বৈঠকে বসে। ২৫০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করে।
সেখানে জানানো হয়, ৫০টি আসন খালি রাখা হচ্ছে। ইসলামী আন্দোলনের বৈঠকের পর তা চূড়ান্ত করা হবে। তবে চরমোনাই পীরের দলের অনুপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুপুরেই অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন নির্বাচনী সমঝোতা হচ্ছে না।
জামায়াত কার্যালয়ের বৈঠকে যোগ দেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অব.) হাসান সোহরাওয়ার্দী, খেলাফত মজলিসের অপরাংশের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম এবং খেলাফত আন্দোলন ও নেজামে ইসলাম পার্টির প্রতিনিধিরা।জামায়াত কার্যালয়ে এই সমঝোতার পর নিশ্চিত হয়ে যায়, চরমোনাই পীর বাদে ১১ দলের সব শরিক জামায়াতের পক্ষে রয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে বিকল্প জোট করা হচ্ছে না।
বৈঠকে অংশ নেওয়া মজিবুর রহমান মঞ্জু সমকালকে বলেছেন, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে ইসলামী আন্দোলন এখনও রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে তা স্পষ্ট হবে। তাদের জন্য ৫০ আসন ফাঁকা রেখে বাকিগুলোতে ঐক্যের প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। তবে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলী আশরাফ আকন সন্ধ্যায় গণমাধ্যম কে জানান, তারা সংবাদ সম্মেলনে যাচ্ছেন না। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
ইসলামপন্থিদের ভোট এক বাক্সে আনার পরিকল্পনা ঘোষণা করে গত মে মাসে ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত, মাওলানা বাছিত আযাদের খেলাফত মজলিস, নেজামী ইসলাম পার্টি, খেলাফত আন্দোলন এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মোর্চা গঠনের আলোচনা শুরু করে। পরে জমিয়ত চলে যায় বিএনপির জোটে। যুক্ত হয় জামায়াত। প্রথম পাঁচটি দলকে নিয়ে পৃথক জোট গঠনে গত দুই দিন ইসলামী আন্দোলন প্রচেষ্টা চালিয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে দলগুলো জামায়াতের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
