গুলি ভর্তি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার কুমিল্লা আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এজিপি) এম মাসুদুল হক। ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লায় গুলি ভর্তি বিদেশি পিস্তল উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের অভিযানে কুমিল্লা আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এজিপি) এম মাসুদুল হক ওরফে মাসুম এবং তার এক সহযোগী আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও মোট ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে অস্ত্র আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুজনকেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম।
টমছমব্রিজে আটক, মিলল অস্ত্রের সূত্র-
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর টমছমব্রিজ এলাকা থেকে আরিফুল ইসলাম (৩৬) নামের এক যুবককে পাঁচ রাউন্ড গুলি ও একটি ছুরিসহ আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তার মুঠোফোন তল্লাশিতে আগ্নেয়াস্ত্রের ছবি পাওয়া যায়। পরে আরিফুল স্বীকার করেন, অস্ত্রটি কুমিল্লা আদালতের এজিপি এম মাসুদুল হকের বাসায় রাখা আছে।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মাসুদুল হকের বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং অতিরিক্ত গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।
রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে আলোচনা-
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এম মাসুদুল হক জামায়াতপন্থি আইনজীবী হিসেবে পরিচিত। তিনি কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হকের ছোট ভাই। দুই ভাইয়ের বাড়িই সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকায়।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে জামায়াতের কোনো দায়িত্বশীল নেতাও এ ঘটনায় মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ
রাতে কুমিল্লা আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) কাইমুল হক জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে তিনি ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছেন। থানার মামলার নথিপত্র হাতে পেলে সরকারি কৌঁসুলির (জিপি) সঙ্গে আলোচনা করে আইন মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয় এজিপি হিসেবে মাসুদুল হকের দায়িত্বের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
জামিন নাকচ, কারাগারে প্রেরণ-
পরে অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় দুজনকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পক্ষ থেকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
