শনিবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঢাকা-৫ আসন সকাল থেকেই প্রচারে প্রার্থীরা ভোট চেয়ে সমর্থকদের মিছিল

স্টাফ রিপোর্টার
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬ ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ী-ডেমরা) আসনে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর প্রথমদিন সকাল থেকেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাঠে নামেন। দলীয় প্রার্থীর অনুসারীরা মিছিল নিয়ে পাড়া মহল্লায় গিয়ে ভোট চেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার যাত্রাবাড়ী, সায়দাবাদ ও ডেমরার কাজলা এলাকা ঘুরে তিন প্রার্থীর বিলবোর্ড চোখে পড়েছে। তারা হলেন– বিএনপির নবীউল্লাহ নবী, জামায়াতের কামাল হোসেন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ ইব্রাহিম। এছাড়া এ আসনে স্বতন্ত্র ও বিভিন্ন দল মিলিয়ে আরও ১১ জন প্রার্থী রয়েছেন।

নবীউল্লাহ নবী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সকাল থেকেই এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালান। সকাল ১০টায় নবী টাওয়ারে এলাকার আলেম-উলামা, ইমাম-খতিব, মুয়াজ্জিন, মাদ্রাসার মোহতামিমদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেন। সভা শেষে নবীউল্লাহ নবী আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। নবীউল্লাহ নবী বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী মীর আব্দুস সবুর আসুদ সকালে মাতুয়াইলে পারিবারিক কবরস্থানে মা বাবার কবর জিয়ারত করে জনসংযোগে নামেন। তবে নির্বাচনী এলাকায় তাঁর ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ড চোখে পড়েনি। তাঁর অভিযোগ, এ আসনে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের তিন প্রার্থীই আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আগে থেকেই পোস্টার, বিলবোর্ড, ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে ভরে ফেলেছেন। নির্বাচন কমিশন তাঁকে ২০টি বিলবোর্ডের অনুমোদন দিয়েছে। এখন সেগুলো লাগানোর ব্যবস্থা করবেন। নির্বাচনের পরিবেশ ভালো উল্লেখ করে তিনি জানান, তাঁর প্রচারণায় কেউ এখন পর্যন্ত বাধা দেয়নি। তবে শঙ্কা আছে।

জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেন যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা শহীদ ফারুক সড়ক থেকে। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আমরা নির্বাচনী মাঠে নেমেছি। ভোটারের সমর্থন ও দোয়া কামনা করছি।

ডেমরার আমতলা এলাকার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় থেকে দুপুরে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘দেশের সংস্কৃতিতে একটি বিশাল পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে সংসদ নির্বাচনে মাঠে নেমেছে আমার দল। এ আসনের অবকাঠামো উন্নয়নসহ সব ধরনের সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আমি বদ্ধপরিকর। আশা করি, এলাকাবাসী সুষ্ঠু রাষ্ট্র গঠনে হাতপাখাকে জয়ী করবে।

নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আগে থেকে সাঁটানো বিপুলসংখ্যক রঙিন ব্যানার পোস্টার এখনও রয়ে গেছে। এর মধ্যে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণাই বেশি। এছাড়া জামায়াত প্রার্থীরও কিছু পোস্টার রয়েছে। এসব পোস্টারে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লার ভোট চাওয়া হচ্ছে। যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায়ও পুরোনো পোস্টারে ভরা। অথচ এবার নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

সায়দাবাদ সুপারমার্কেটের দোকানি স্বপন দেওয়ান বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ মার্কেটে ভোট চাইতে আসেনি। তবে আগে থেকেই অনেক পোস্টার সাঁটানো আছে। ব্যানারও আছে।

জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মী-অনুসারীরা বিভিন্ন পাড়ামহল্লায় মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে লিফলেট বিতরণ করা হয়। অনেকের হাতে ছিল প্রার্থীর ফেস্টুন।

যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার ব্যবসায়ী আনিস আহমেদ বলেন, মানুষের মধ্যে এখনও নির্বাচনী উৎসাহ ঠিকমতো শুরু হয়নি। দুয়েকটা দিন গেলে বোঝা যাবে নির্বাচন কতটা জমজমাট হবে।

ডেমরা-যাত্রাবাড়ী নিয়ে গঠিত এই আসনে এক সময় এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান মোল্লা। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে সজল মোল্লা এই আসনে শেষ এমপি ছিলেন। এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রয়েছে বড় ভোটব্যাংক। এর পরের অবস্থানেই ছিল জাতীয় পার্টি। এই নির্বাচনী এলাকা থেকে জামায়াতের কোনো নেতা কখনও সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়নি। তবে এবার জামায়াতের এমপি প্রার্থীর ভালো তৎপরতা লক্ষ্য করছেন বলে জানিয়েছেন কাজলার বাসিন্দা আশরাফুল আলম। তিনি বলেন, কিছু দিন ধরেই জামায়াতের নারী কর্মীরা মানুষের বাড়িতে বাড়িতে দাওয়াত দেওয়া শুরু করেছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।