কুমিল্লার দেবিদ্বারে সেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মিথ্যা মামলায়’ গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যোগ করা যাবে) কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া নেতা হলেন কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম। জানা যায়, গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ইং রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে জাফরগঞ্জ বাজারে সেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনী সেখানে উপস্থিত হয়ে মো. রেজাউল করিমকে হেফাজতে নেয়। পরে তাকে দেবিদ্বার থানায় হস্তান্তর করা হয়। দেবিদ্বার থানা পুলিশ তাকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে জাফরগঞ্জ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মানববন্ধনে অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দেবিদ্বার উপজেলার গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় মো. রেজাউল করিমকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করা হচ্ছিল। অবৈধ মাটি কাটার ঘটনায় ৯৯৯-এ ফোন করার পর রেজাউল করিমসহ তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা আরও বলেন, মো. রেজাউল করিম জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং সামনের সারি থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তিনি কখনোই অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আপস বা লিয়াজোঁ করে রাজনীতি করেননি। অথচ তাকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বক্তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে মো. রেজাউল করিমের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের নির্বাহী সদস্য মাসুদুর রহমান রাসেন, জাফরগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. কালাম, ছাত্রদল নেতা মো. ইমন, ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. এরশাদ মিয়া, জাফরগঞ্জ ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. আল হেলাল, মো. রেজাউল করিমের স্ত্রী মোসাম্মদ রিমি আক্তার এবং কন্যা মোসাম্মদ নূসরাত জাহানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
