বুধবার, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নির্বাচিত সরকারের সামনে পাঁচ বড় চ্যালেঞ্জ,কী বলছে ক্রাইসিস গ্রুপ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ ১১:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে গঠিত নতুন সরকারের সামনে একাধিক জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ভঙ্গুর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মেরামত থেকে শুরু করে তরুণদের কর্মসংস্থান, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কূটনীতি, উগ্রপন্থা দমন এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করতে হবে পরবর্তী সরকারকে।

ব্রাসেলসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ-এর এক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে এসব চ্যালেঞ্জের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির বাংলাদেশ ও মিয়ানমারবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরামর্শক টমাস কিন রচিত নিবন্ধটি সোমবার ক্রাইসিস গ্রুপের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

নিবন্ধের শিরোনাম— অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ঘণ্টা ঘনিয়ে আসছে নির্বাচন। নতুন সরকারের সামনে যে পাঁচটি বড় চ্যালেঞ্জ নিবন্ধের শেষ প্রশ্নে পরবর্তী সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো—

* ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠান ও ধীর অর্থনীতি, দুর্বল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, পোশাক রপ্তানি ও রেমিট্যান্সনির্ভর মন্থর অর্থনীতি, সংস্কারের বড় পরীক্ষায় পড়বে সরকার।

* তরুণদের কর্মসংস্থান ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ– দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীর বয়স ৩০ বছরের নিচে। শিক্ষিত তরুণদের জন্য মানসম্মত চাকরি না থাকলে স্থিতিশীলতার সবচেয়ে বড় হুমকি তৈরি হতে পারে। চাকরির পাশাপাশি তারা স্বচ্ছতা ও উন্নয়নের ন্যায্য বণ্টন চায়।

* উগ্রপন্থা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি–শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর হিযবুত তাহ্‌রীরের মতো কট্টরপন্থি গোষ্ঠীর প্রভাব বাড়ছে। সহিংস চরমপন্থা মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

* আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ–বড় ভোটব্যাংক ও ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণে আওয়ামী লীগকে দীর্ঘদিন রাজনীতির বাইরে রাখা সম্ভব নয়। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলনকারীদের ওপর সহিংসতার পর দলটিকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। সংঘাত এড়াতে রাজনৈতিক সমঝোতা জরুরি বলে মনে করছে ক্রাইসিস গ্রুপ।

* পররাষ্ট্রনীতি, রোহিঙ্গা ও জলবায়ু সংকট–ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন সামলানো, যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রভাব মোকাবিলা, মিয়ানমার সীমান্তে থাকা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রত্যাবাসন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান চাপ—সবই বড় চ্যালেঞ্জ।

তরুণদের হতাশা বড় ঝুঁকি–নিবন্ধে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে তরুণ সমাজকে নিয়ে।‘জুলাই সনদ’ ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যর্থতা তরুণদের মধ্যে এই ধারণা তৈরি করতে পারে যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি কেবল লোকদেখানো। এতে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আওয়ামী লীগ ইস্যুতে সংলাপের পরামর্শের বিষয়ে ক্রাইসিস গ্রুপ বলছে, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনার শর্ত নিয়ে বড় দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য জরুরি। এর জন্য দলটির নেতৃত্বকে ২০২৪ সালের সহিংসতার জন্য আন্তরিক অনুশোচনা প্রকাশ করতে হবে। এক্ষেত্রে ভারতসহ প্রভাবশালী বিদেশি রাষ্ট্রগুলো মধ্যস্থতার ভূমিকা রাখতে পারে বলেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংস্কারের অগ্রগতি কতদূর? নিবন্ধে আরো বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা ও রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরিতে সাফল্য দেখিয়েছে। তাদের বড় অর্জন— জুলাই সনদ’, যেখানে সংবিধানসহ ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। ২৫টি রাজনৈতিক দল এতে সই করেছে।

তবে পুলিশ ও নিরাপত্তা খাত সংস্কারে অগ্রগতি কম। মব সহিংসতা ও বিচারহীনতা জনমনে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। সংস্কার বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের সদিচ্ছার ওপর।

নির্বাচন ও রাজনৈতিক সমীকরণ–নিবন্ধের শুরুতে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটিই প্রথম নির্বাচন এবং গত ১৫ বছরে প্রথমবার বড় সংখ্যক ভোটার একটি গ্রহণযোগ্য ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে— বিএনপি বনাম জামায়াতে ইসলামী।তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে বিএনপি উজ্জীবিত, আর তরুণদের সমর্থন ও এনসিপির সঙ্গে জোট গড়ে শক্ত অবস্থানে জামায়াত। ভোটের ফলাফল নির্ভর করবে দুই জোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ওপর।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।