বুধবার, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

টানা ছয় মাস কমলো রপ্তানি আয়

সমতল মাতৃভূমি ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রপ্তানিতে পতন চলছেই। টানা পতন ছয় মাসে গড়ালো। সদ্য সমাপ্ত জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয় গত বছরের একই মাসের চেয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমছে। রপ্তানি কমার এই প্রবণতা চলছে গত বছরের আগস্ট থেকে। তবে রপ্তানি হ্রাস অব্যাহত থাকলেও নিম্নমুখী গতি কিছুটা কমে এসেছে। জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৪১ কোটি ডলারের কিছু বেশি। গত ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি কমেছিল ১৪ শতাংশ। ওই মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৩৯৭ কোটি ডলারের। অর্থাৎ ডিসেম্বরের চেয়ে জানুয়ারিতে রপ্তানি বেশি হয়েছে ৪৪ কোটি ডলার।

ডিসেম্বরের চেয়ে জানুয়ারিতে রপ্তানি বেশি হয়েছে ১১ শতাংশ। আগের মাসের তুলনায় রপ্তানি বৃদ্ধির এই প্রবণতা গত নভেম্বরে শুরু হয়। গত নভেম্বরে অক্টোবরের চেয়ে রপ্তানি ২ শতাংশ বেশি হয়। ডিসেম্বরে রপ্তানি নভেম্বরের চেয়ে বেশি হয় ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

রপ্তানি প্রবণতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগের মাসের চেয়ে পরপর তিন মাস রপ্তানি বাড়ার এই প্রবণতার মধ্যেও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হওয়ার কারণ হচ্ছে- গত বছরের এই তিন মাসের রপ্তানিতে মজবুত ভিত্তি ছিল। অর্থাৎ গত বছর এই তিন মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রপ্তানি হয়। যেমন, গত বছরের নভেম্বরে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ শতাংশ। ডিসেম্বরে আরও বেড়ে হয় ১৮ শতাংশ। গত বছরের জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৬ শতাংশের মত।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সোমবার রপ্তানির হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাস থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ কম হয়েছে। রপ্তানি আয় এসেছে ২ হাজার ৮৪১ কোটি ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ২ হাজার ৮৯৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের গত সাত মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে কম হয়েছে ৫৫ কোটি ডলার।

রপ্তানি খাতের এই পরিস্থিতির কারণ জানতে চাইলে মোটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাসুদ কবীর আজ সমকালকে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সময়মতো পণ্য বুঝে পেতে বিলম্ব বা অনিশ্চয়তা থেকে অনেক ব্র্যান্ড-ক্রেতা রপ্তানি আদেশ ধরে রেখেছে। কেউ স্বাভাবিক পরিমাণের চেয়ে কম রপ্তানি আদেশ দিচ্ছে। এর বাইরে মার্কিন পাল্টা শুল্কের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন এসেছে, তাতে অনেক দেশেই চাহিদা কমেছে। বিশেষ করে একক রাষ্ট্র হিসেব প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেখানে ভোক্তা পর্যায়ে ভোগ ক্ষমতা কমেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাধারণত মৌলিক পোশাক করে থাকে। এসব আইটেমের ভোক্তাদের ক্রয়সক্ষমতা তুলনামূলক আরও কিছুটা কম। পাল্টা শুল্কের কারণে এক্ষেত্রে শুল্কভার এখন ৩৬ শতাংশ। বড়তি ব্যয় ভোক্তাদের জন্য কিছুটা অসহনীয়। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে গতি কম। মৌলিক পোশাক উৎপাদন করে দেশের এরকম কারখানাগুলো এখন সংকটে আছে। এছাড়া পাল্টা শুল্কের কারণে ভোক্তাদের আচরণেও কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। একটা ভোক্তা শ্রেণি সাশ্রয়ের ভাবনা থেকে কম দামের সাধারণ পোশাকের চেয়ে অনেক দিন ব্যবহার করা যায় এমন পোশাকে ঝুঁকছে। দীর্ঘ দিন ব্যবহার করা যায় বলে দাম আপাতত কিছুটা বেশি হলেও শেষ বিচারে তা সাশ্রয়ী। পাল্টা শুল্ককে কেন্দ্র করে ইউরোপ এবং নতুন বাজারে চীন ও ভারতের আগ্রাসী বাণিজ্য তো আছেই। এসব কারণে রপ্তানিতে গতি নেই। খুব শিগগির এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের সম্ভাবনা নেই।

ইপিবির প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে তৈরি পোশাকের রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে। আয় এসেছে ২ হাজার ২৯৮ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৩৫৫ কোটি ডলার। অন্যদিকে একক মাস হিসেবে গত জানুয়ারি মাসে রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। মাসটিতে আয় এসেছে ৩৬১ কোটি ডলার, যা গত বছরের জানুয়ারিতে ছিল ৩৬৬ কোটি ডলার। পোশাকের মধ্যে নিট বা গেঞ্জি জাতীয় পোশাকের রপ্তানি বেশি হারে কমেছে। নিটের রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৬১ শতাংশ। ওভেনের কমেছে শূন্য দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

রপ্তানি খাতের উল্লেখযোগ্য অন্য পণ্যের মধ্যে কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে ৭ শতাংশের মত। তবে হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ১৩ শতাংশের মত। চামড়া ও চামড়া পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৬ শতাংশ। পাট ও পাটপণ্যে ১২ শতাংশ, হোমটেক্সটাইলে ৫ শতাংশের মত বেড়েছে রপ্তানি আয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।