শিক্ষার্থীদের হাসি, করতালি আর বিজয়ের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছিল রাজধানীর রামপুরা একরামুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। দীর্ঘ দুই বছর পর আবারও ফিরে এলো ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রাণচাঞ্চল্য—সঙ্গে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী। সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে বিদ্যালয়টি যেন পরিণত হয়েছিল এক আনন্দময় উৎসবভূমিতে।
অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রামপুরা একরামুন্নেছা বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি জনাব মোঃ বদরুদ্দোজা শুভ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল মজিদ, বাড্ডা থানার শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল হাকিম এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান হাওলাদার। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানের মর্যাদা ও গুরুত্বকে বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে।
সকাল আটটায় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে বিকাল তিনটা পর্যন্ত চলে পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং অতিথিদের সরব উপস্থিতিতে পুরো এলাকা ছিল উৎসবের আমেজে ভরপুর। দুই বছর পর খেলাধুলার আয়োজন ফিরে আসায় শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল স্বস্তি আর উচ্ছ্বাস—যেন হারিয়ে যাওয়া আনন্দ আবার নতুন করে ধরা দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের সুনাম ও শিক্ষার মান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বক্তারা বলেন, প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান হাওলাদার যোগদানের পর প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, পাশাপাশি পড়াশোনার মান নিয়েও বিদ্যালয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা উত্তর অঞ্চলের শিক্ষা জরিপে মোঃ মিজানুর রহমান শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় অনুষ্ঠানে তাঁকে ঘিরে ছিল বিশেষ অভিনন্দন ও গর্বের আবহ।
সব মিলিয়ে, রামপুরা একরামুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজনই নয়—এ ছিল শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, পরিশ্রম আর সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল উদযাপন। 🌸🏆
