আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দোকান ও শপিং মল বন্ধ রাখা হবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
শনিবার বিকেলে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি এ কথা জানায়।
পাল্টাপাল্টি বিজ্ঞপ্তিতে বিভ্রান্তি-এর আগে দুপুরে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি নামে একটি সংগঠন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটগ্রহণে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার (১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে দোকান, বাণিজ্যবিতান ও শপিং মল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই ঘোষণার পরপরই বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি পৃথক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করে।
কেন্দ্রীয় কোনো সিদ্ধান্ত নেই- বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে দোকান বা শপিং মল বন্ধ রাখার বিষয়ে সমিতি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি এবং কোনো নির্দেশনাও দেয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনের সময় দোকান খোলা রাখা বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় মার্কেট ও বাজার সমিতির ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় পরিস্থিতি ও ব্যবসায়িক সুবিধা বিবেচনা করে তারাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এ নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
ভুয়া তথ্যে কান না দেওয়ার আহ্বান : ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। একই সঙ্গে, যারা সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের আইনগত ভিত্তি ও নিবন্ধন রয়েছে কি না—তা যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
নিবন্ধিত ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন-
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি একটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি কর্তৃক নিবন্ধিত ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক সংগঠন। ফলে কোনো অননুমোদিত পক্ষ থেকে আসা তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বহিষ্কৃতদের অপপ্রচার বলে দাবি-
পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির মহাসচিব জহিরুল হক ভুঁইয়া বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি কর্তৃক নিবন্ধিত সংগঠন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। এই সমিতি থেকে কিছু সংখ্যক লোককে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তারা সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেশের ব্যবসায়ী সমাজকে আহ্বান জানাচ্ছি—এ ধরনের অপপ্রচারে কান না দিতে এবং বিভ্রান্ত না হতে।
