জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তড়িঘড়ি নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। চাকরির আবেদন থেকে শুরু করে পরীক্ষা গ্রহণ নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে না।
সকল সরকারি চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে টেলিটকের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করতে হয়। জুলাই জাদুঘর কর্তৃপক্ষ অনলাইনে গুগল ফর্মে আবেদন নিয়েছে। কোনো ফি নেয়নি। আবেদনের সময় দেওয়া হয় মাত্র ৭ দিন। লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা ২০২৫ অনুযায়ী, বিভিন্ন পদে নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ৬ থেকে ২০ গ্রেডের ৬২টি পদে ৯৬ জনকে শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। গত ২৮ জানুয়ারি এ নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদে ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া গণমাধ্যম কে বলেন, ‘লিখিত পরীক্ষার বিধান থাকলে অবশ্যই সে অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে হবে। প্রবিধানে না থাকলে রাষ্ট্রপতিও সেটি প্রমার্জন করতে পারেন না। এরপরও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হলে বৈধতা নিয়ে তারা প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন। যারা নিয়োগ দেবেন তারা জবাবদিহির আওতায় আসবেন।’ তিনি বলেন, ষষ্ঠ গ্রেড শীর্ষ পর্যায়ের পদ। এ পদে লিখিত পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ দেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক হবে না। মৌখিক পরীক্ষার নম্বরে কোনো প্রমাণ থাকবে না। স্বজনপ্রীতির সুযোগ থাকবে।
এই চাকরির প্রবিধানমালার তপশিল-২ এ প্রার্থীদের পরীক্ষার নাম, বিষয় ও নম্বর উল্লেখ আছে। এতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান বা প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল বিষয়ের ওপর ৯০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়ার শর্ত রয়েছে। পরীক্ষার সময় ৯০ মিনিট। মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর ১০। লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই মৌখিক পরীক্ষার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন বলে উল্লেখ আছে। অফিস সহকারী কাম কম্পিটার মুদ্রাক্ষরিকের ১৬তম গ্রেডের পদে বাংলা ও ইংরেজিতে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। কম্পিটার মুদ্রাক্ষরে হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা।
প্রবিধানমালার ৩-এর ৩ ধারায় বলা আছে, বিশেষায়িত জাদুঘর হওয়ায় বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ নিয়োগের যেকোনো শর্ত শিথিল করতে পারবে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেও এই শর্ত উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ধারার সুযোগ নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
জুলাই জাদুঘরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৭ দিনে ১০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদন পর্যালোচনা শেষে প্রতিটি পদের ভিত্তিতে নির্বাচিত পরীক্ষার্থীদের মৌখিক এবং দক্ষতা পরীক্ষণের জন্য ডাকা হবে। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হবেন।
এ বিষয়ে সোহানুর রহমান সোহান নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘জুলাই জাদুঘরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে এক সপ্তাহ আগে, ২টা পদে আবেদন করেছিলাম। এখনও কোনো পরীক্ষার জন্য ডাকে নাই।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব সমতল মাতৃভূমি কে বলেন, দ্রুত জাদুঘরের কার্যক্রম শুরু করার জন্য লিখিত পরীক্ষা প্রমার্জন রাষ্ট্রপতি করেছেন। লিখিত পরীক্ষা প্রমার্জনের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকে প্রবিধানের কত নাম্বার ধারায় দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রমার্জনের জন্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু এটা নিয়ে রাষ্ট্রীয় আইন জেনে নিতে পারেন। আবেদন গুগল সিটে নেওয়া, আবেদনের ফি না নেওয়ার কারণ এবং মৌখিক পরীক্ষা কবে হবে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হয়নি, চলমান আছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। এই মুহূর্তে এ ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দ্রুত নিয়োগ শেষ করার চাপ থাকায় লিখিত পরীক্ষার ধাপ এড়িয়ে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
