সোমবার, ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ক্ষমতার করিডরে জোর গুঞ্জন: কেমন চমক নিয়ে আসছে বিএনপির মন্ত্রিসভা?

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ ৪:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বিএনপি। নেতৃত্বে রয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় অন্দরে শুরু হয়েছে টানা বৈঠক, হিসাব-নিকাশ আর চূড়ান্ত দৌড়ঝাঁপ। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে এক ‘নতুন ধাঁচের’ মন্ত্রিসভা গঠনের আভাস মিলছে।
শপথের অপেক্ষা, তারপরই চূড়ান্ত ছবি
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের সম্ভাব্য তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি। শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাবেন রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে। এরপরই শুরু হবে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।
দলীয় সূত্র বলছে—নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, প্রশাসনে গতি আনা এবং নীতিনির্ধারণে নতুন ভাবনার প্রতিফলন ঘটাতেই তরুণ ও টেকনোক্র্যাটদের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
আলোচনায় ভারী নাম, সম্ভাব্য চমকও কম নয়
দলটির ২০০১–২০০৬ সময়কার সরকারের কয়েকজন অভিজ্ঞ নেতাকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর—রাষ্ট্রপতি বা উপ-রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদে আলোচনায়।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও মির্জা আব্বাস—গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে।
কক্সবাজার-১ থেকে নির্বাচিত সালাহউদ্দিন আহমেদ—সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকতে পারেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী—পররাষ্ট্র বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সম্ভাব্য মুখ।
ড. এজেডএম জাহিদ হোসেন—স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আলোচনায়।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু—মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়।
আ ন ম এহসানুল হক মিলন—শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিবেচনায়।
নজরুল ইসলাম খান—প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে আলোচনায়।
টেকনোক্র্যাট কোটায় জায়গা পেতে পারেন অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, মাহদী আমিন ও ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
তারুণ্যের ঝলক: নতুন মুখের আগমন
দলের ভেতরে নতুন নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণদেরও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
রুহুল কবির রিজভী—তথ্য ও সম্প্রচার (টেকনোক্র্যাট)।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি—স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান—আইন মন্ত্রণালয়।
আমিনুল হক—যুব ও ক্রীড়া।
হুমায়ুন কবির—পররাষ্ট্রমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) হিসেবে আলোচনায়।
এছাড়া শ্যামা ওবায়েদ, আরিফুর রহমান চৌধুরী, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, তানভীর আহমেদ রবীন, শহীদুল ইসলাম বাবুল, হাবিবুর রশীদ হাবিব ও সাঈদ আল নোমানের নামও ঘুরপাক খাচ্ছে দলীয় অন্দরে।
কী বার্তা দেবে এই মন্ত্রিসভা?
দলীয় সূত্রের দাবি—এবারের মন্ত্রিসভা হবে “পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের” প্রতিচ্ছবি। অভিজ্ঞ নেতাদের কাঁধে নীতিনির্ধারণ, আর তরুণদের হাতে বাস্তবায়নের দায়িত্ব—এমন এক দ্বিমাত্রিক কৌশল নিয়েই এগোচ্ছে বিএনপি।
সবকিছু ঠিক থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হবে নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ চিত্র। এখন দেশজুড়ে একটাই প্রশ্ন—কতটা চমক থাকবে তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভায়?

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।