ছবি:সংগৃহীত
দীর্ঘ দেড় বছর পর খুলনার রাজনৈতিক মানচিত্রে হঠাৎই জ্বলে উঠল পুরোনো অগ্নিস্মৃতি। রোববার বিকেলে নগরীর শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর মহানগর ও জেলা কার্যালয়ে ৫ থেকে ৭ মিনিটের সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি ঘিরে শুরু হয় নতুন বিতর্ক, যা রাতে গিয়ে ঠেকে আগুন আর ভাঙচুরে।
বিকেলের দৃশ্য: ফুল, পতাকা, ‘জয় বাংলা’
প্রায় দেড় বছর পর কয়েকজন নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ে এসে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা-র ছবিতে ফুলের মালা দেন। হাতে ছোট জাতীয় পতাকা, কণ্ঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান—মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা সরে যান।
সন্ধ্যার মধ্যেই সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আর তাতেই যেন নতুন করে জ্বলে ওঠে চাপা ক্ষোভ।
রাতের উত্তাপ: তালা ভাঙা, আগুন, আতঙ্ক
রাতে অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্ররা দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। অভিযোগ, তারা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান এবং আগুন ধরিয়ে দেন। ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা ও আতঙ্ক।
খুলনা সদর থানার ওসি মো. কবির হোসেন জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পেছনের রক্তাক্ত অধ্যায়।
এই কার্যালয় ঘিরে উত্তেজনার ইতিহাস নতুন নয়। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট অভ্যুত্থান চলাকালে এখানেই ছাত্র-জনতার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ ওঠে, কার্যালয় থেকে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। পরে ক্ষুব্ধ জনতা অফিসে আগুন দেয়। সেই ঘটনার পর থেকে ভবনটি ছিল পরিত্যক্ত।
আমরা পালাইনি’ বনাম ‘রক্তের স্মৃতি’
সদর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়েজুল হক রুবেল দাবি করেন, দল ক্ষমতায় থাকাকালেও আমরা লুটপাট করিনি। আমরা পালাইনি। সুষ্ঠু রাজনীতির বার্তা দিতেই অফিসে গিয়েছি।
অন্যদিকে আহত জুলাইযোদ্ধা রাফসান জানি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার শরীরে ১১টি গুলি। আমরা কষ্ট বয়ে বেড়াব, আর ওরা রাজনীতি করবে—এটা হতে দেব না।
রাজনীতির পথ কোনদিকে?
খুলনার এই ঘটনাপ্রবাহ শুধু একটি দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে নয়—এটি আমাদের রাজনীতির বর্তমান মানসিকতার প্রতিচ্ছবি। প্রতিশোধ আর পাল্টা প্রতিক্রিয়ার রাজনীতি কখনোই দেশকে সামনে এগিয়ে নেয় না।
রাজনীতি হওয়া উচিত দেশসেবার ব্রত নিয়ে। ব্যক্তি স্বার্থ, ক্ষমতার লড়াই কিংবা প্রতিহিংসা নয়—প্রয়োজন উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা।
সবার উপরে দেশ।
দেশ বাঁচলে রাজনীতি বাঁচবে।
দেশপ্রেমই হোক আমাদের সবচেয়ে বড় অধ্যায়।
