বিএনপির মন্ত্রীসভায় পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী (ওপরে) ও প্রতিমন্ত্রী (নিচে) হিসেবে জায়গা পাচ্ছেন অভিজ্ঞ ও তরুণরা। কোলাজ
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর চূড়ান্ত প্রস্তুতি—আজই শপথ নিচ্ছে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা। রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা আর জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই জানা গেছে, প্রায় ৪৯ সদস্যের এক শক্তিশালী মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
দলীয় সূত্র বলছে, ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে সাজানো হচ্ছে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো। মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য অনেকেই শপথগ্রহণের ফোন পেতে শুরু করেছেন—যা রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি করেছে বাড়তি কৌতূহল ও চাঞ্চল্য।
বিকেলে দক্ষিণ প্লাজায় শপথ
বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় বসবে শপথের মঞ্চ। লালগালিচা, কঠোর নিরাপত্তা আর উৎসুক দৃষ্টি—সব মিলিয়ে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষায় দেশ।
জানা গেছে, পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে দুজন এবং প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে একজন টেকনোক্র্যাট কোটায় থাকছেন—যা ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রশাসনে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ের।
সম্ভাব্য পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকায় যাঁরা
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-সহ আছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে আসছেন মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ও খলিলুর রহমান।প্রতিমন্ত্রীদের তালিকায় চমক
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ, জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, নুরুল হক নুর, ববি হাজ্জাজসহ আরও অনেকে।
টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন আমিনুল হক।
নতুন অধ্যায়ের সূচনা
দলীয় ও প্রশাসনিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—কার হাতে যাবে কোন মন্ত্রণালয়? অর্থ, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, শিক্ষা—গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বণ্টন ঘিরে চলছে চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্ত্রিসভা শুধু সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং নতুন ক্ষমতার কাঠামো, নীতিনির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার প্রতীক।
সব মিলিয়ে আজকের শপথ অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়।
