দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে এশিয়ার তিন প্রভাবশালী শক্তি—চীন, ভারত ও জাপান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় তারেক রহমান-কে অভিনন্দন জানিয়ে তিন দেশের সরকারই ঢাকার সঙ্গে কৌশলগত ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বেইজিংয়ের বার্তা: ‘সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব’কে নতুন উচ্চতায়।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং তাঁর অভিনন্দন বার্তায় বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫১ বছরে চীন ও বাংলাদেশ পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে এগিয়েছে। বেইজিং নতুন সরকারকে দেশ পরিচালনায় পূর্ণ সমর্থন দেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ককে ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’ হিসেবে আখ্যায়িত করে লি কিয়াং জানান, তিনি দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় করতে এবং Belt and Road Initiative (বিআরআই) সহযোগিতা সম্প্রসারণে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
২০১৩ সালে শুরু হওয়া এই ‘নিউ সিল্ক রুট’ প্রকল্প পূর্ব এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত অবকাঠামোগত সংযোগ গড়ে তুলেছে এবং সময়ের সঙ্গে আফ্রিকা, ওশেনিয়া ও লাতিন আমেরিকায় বিস্তৃত হয়েছে—যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চীনের প্রভাবকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।টোকিওর অঙ্গীকার: কৌশলগত অংশীদারত্বের ধারাবাহিকতা-
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি অভিনন্দন বার্তায় বলেন, বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে আরও গভীর ও ফলপ্রসূ করতে তিনি কাজ করতে প্রস্তুত।
অর্থনীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
নয়াদিল্লির দৃষ্টি: সংযোগ, নিরাপত্তা ও অভিন্ন সমৃদ্ধি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর বার্তায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। সংযোগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো খাতে যৌথ অগ্রযাত্রার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
মোদি বলেন, দ্রুত বর্ধনশীল দুই অর্থনীতি পারস্পরিক উন্নয়নে অনুঘটক হতে পারে এবং টেকসই নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। সুবিধাজনক সময়ে স্ত্রী ও মেয়েসহ তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন তিনি।
আঞ্চলিক ভারসাম্যে বাংলাদেশের অবস্থান
তিন বৃহৎ এশীয় শক্তির প্রায় সমসাময়িক বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে—ঢাকা এখন শুধু একটি জাতীয় রাজধানী নয়, বরং আঞ্চলিক কৌশলগত সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু।
বিআরআই, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, আঞ্চলিক সংযোগ ও বাণিজ্যিক করিডোর—সবকিছুর মিলনস্থলে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ নতুন সরকারের অধীনে কেমন ভারসাম্য রক্ষা করবে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের কৌতূহলের কেন্দ্র।
