বুধবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফেসবুকের বন্ধুত্ব থেকে ‘হানিট্র্যাপ’—রাজধানীতে সক্রিয় চক্রের ১২ সদস্য গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ ১১:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গ্রেপ্তার চক্রের ১২ সদস্য। ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্ব, তারপর দেখা করার প্রস্তাব—এরপরই শুরু ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন। রাজধানীতে এমন ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন দুই নারীও।
পুলিশ জানায়, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন তুলিয়া আক্তার সুমি। পরে দেখা করার কথা বলে তাকে রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার হোসেন প্লাজার সামনে ডেকে নেন। সেখান থেকে বাসায় নিয়ে গেলে কয়েকজন সহযোগী মিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—তুলিয়া আক্তার সুমি, দুলালী ওরফে মীম, ওমর ফারুক, শফিকুল ইসলাম শান্ত, সজল তালুকদার, মো. ইয়াছিন, নাছির খান, সাদ্দাম, মেহেদী হাসান শাহরিয়া, আজিজুল হাকিম টুটুল, কামরুল ইসলাম ও মো. রাব্বি। রোববার ও সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
অপহরণ, নির্যাতন ও চাঁদাবাজি
যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি ভোরে সায়েদাবাদ জনপদ মোড় এলাকা থেকে দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করে চক্রটি। তাদের মাতুয়াইল কবরস্থান রোডের একটি বাসায় আটকে রেখে মারধর করা হয়। সেখানে অজ্ঞাত দুই নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।হুমকির মুখে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ৪৮ হাজার টাকা, দুই ভরি রূপার চেইন, একটি হীরার আংটি এবং বিকাশ, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে এটিএম বুথ থেকে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ১৩ জানুয়ারি মামলা হয়।
অন্য ঘটনায়, গত ১৫ ডিসেম্বর ফেসবুকের সূত্রে ডেমরায় ডেকে এনে আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে আট লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগী ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা নগদ, এক ভরি ওজনের দুটি স্বর্ণের আংটি এবং পরিবারের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আনা ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা দিতে বাধ্য হন। পরে ১৩ জানুয়ারি ডেমরা থানা-এ মামলা করেন তিনি।
একই চক্র, বিস্তৃত জাল
পুলিশ জানায়, দুটি ঘটনার তদন্তে বেরিয়ে আসে—জড়িতরা একই সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এই চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে টার্গেট নির্বাচন করত। প্রথমে সম্পর্ক গড়ে তুলে পরে ফাঁদে ফেলে অপহরণ, নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায় ছিল তাদের কৌশল।
রাজধানীতে এ ধরনের চক্রের বিস্তার সমাজে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, এমন অপরাধ রোধে নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
পুলিশের পরামর্শ—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাতে সতর্ক থাকুন, ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি শেয়ার থেকে বিরত থাকুন এবং সন্দেহজনক কিছু হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।