ফাইল ছবি
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনার তীরঘেঁষা মেঘাই নৌবন্দর এলাকায় পুলিশের অভিযানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর ঘটনা। শুক্রবার সকালে একটি ট্রাকে করে সন্দেহজনকভাবে মাংস পরিবহনের সময় অভিযান চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করে প্রায় ৪০০ কেজি ঘোড়ার মাংস। এ সময় নীলফামারীর কাউসার আলী পলাশ ও শরিফুল ইসলাম নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক দুজনকে প্রত্যেককে দুই মাসের কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় জব্দ করা মাংস তাৎক্ষণিকভাবে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও আইনি ঝুঁকি-
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনেয়ারুল হক জানান, ঘোড়া জবাই ও এর মাংস বিক্রি দেশে আইনত নিষিদ্ধ। যথাযথ পরীক্ষার বাইরে এসব মাংসে জীবাণুর ঝুঁকি বেশি থাকায় তা মানুষের জন্য অনিরাপদ।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ-
সিরাজগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ বলেন, ইসলামে ঘোড়ার মাংস খাওয়া মাকরূহ বা অনুৎসাহিত। একই মত দিয়ে রেলওয়ে কওমি মাদ্রাসার মুহতারিম মুফতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, এটি মাকরুহে তাহরিমি—অর্থাৎ পরিত্যাজ্য হিসেবে বিবেচিত।
বিশ্বের কোথায় খাওয়া হয়-
বাংলাদেশে ঘোড়ার মাংস খাওয়ার নজির খুব কম হলেও বিশ্বের কিছু অঞ্চলে এটি জনপ্রিয় খাবার। বিশেষ করে কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, চীন, মঙ্গোলিয়া, জাপানসহ ইউরোপের ফ্রান্স, ইতালি, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ডে ঘোড়ার মাংস চর্বিহীন, হালকা মিষ্টি স্বাদ ও উচ্চ প্রোটিনের জন্য অনেকের কাছে পছন্দের।
তবে কাজিপুরের এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—নিষিদ্ধ মাংস কোথা থেকে এলো এবং কারা এর ক্রেতা ছিল? বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধান চলছে বলে জানা গেছে।
