আরিফ রাঢ়ী
দেশের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক নৃশংস ঘটনায় ঝরে গেল চারটি প্রাণ। কোথাও গণপিটুনির উন্মত্ততা, কোথাও পূর্বশত্রুতার প্রতিশোধ, আবার কোথাও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে উঠেছে হৃদয়বিদারক।
গাইবান্ধায় গণপিটুনির নির্মম পরিণতি-
গাইবান্ধার সাদুল্লাহপুরে ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন দুইজন। শুক্রবার ভোরে খোদ্দ মোজাহিদপুর গ্রামের দারোগার বাজারে উত্তেজিত জনতার হাতে প্রাণ হারান মঈনুল ইসলাম (৫০) ও লেবু মিয়া ওরফে ভণ্ডল (২৪)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ছিনতাইয়ের অভিযোগে তিনজনকে আটক করলে তাদের মধ্যে একজন পালিয়ে যায়। পরে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বাকি দুজনকে পিটিয়ে হত্যা করে। শুধু তাই নয়, ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া এবং এক অভিযুক্তের বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।
যশোরে গ্রাম্য চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা-
যশোরের শার্শায় আল আমিন (৩২) নামের এক গ্রাম্য চিকিৎসকের রক্তাক্ত মরদেহ যেন নীরব প্রতিবাদ জানায় সহিংসতার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে চেম্বার বন্ধ করে তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে।
গুরুতর জখম অবস্থায় পড়ে থাকা আল আমিনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি—ঘটনাস্থলেই নিভে যায় তাঁর জীবন। পুলিশ বলছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। বগুড়ায় ফুটবল খেলার বিরোধে কিশোর খুন
বগুড়ার নন্দীগ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল ১৭ বছর বয়সী কিশোর মিলন হোসেনের। ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দ্বন্দ্ব এক মাসের মধ্যে রূপ নেয় প্রাণঘাতী সংঘর্ষে।
বৃহস্পতিবার রাতে মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েক যুবক মিলনের বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরিবারের স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ মুহূর্তেই থেমে যায় রক্তাক্ত সেই রাতে। পুলিশ জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে।
বরিশালে তুচ্ছ ঘটনায় স্কুলছাত্রের মৃত্যু-
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের হিজলায়। মাত্র ১২ বছরের স্কুলছাত্র আরিফ রাঢ়ী—যার হাতে ছিল বই, চোখে ছিল স্বপ্ন—তুচ্ছ ঘটনার জেরে হারাল জীবন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবেশী মোশারফ বয়াতির ঘরে গিয়ে নামাজে যেতে বলায় কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রাগের বশে মোশারফ আরিফের বুকে লাথি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে আতঙ্কে মরদেহ খালে ফেলে দেওয়া হয়। শুক্রবার সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে অভিযুক্তকে আটক করেছে।
সহিংসতার নির্মম বার্তা-
চারটি ঘটনার ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট হলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—তুচ্ছ বিরোধ, সন্দেহ বা ক্ষোভ মুহূর্তেই কেড়ে নিচ্ছে জীবন। কোথাও জনতার বিচার, কোথাও প্রতিশোধ, আবার কোথাও নিয়ন্ত্রণহীন রাগ—সব মিলিয়ে সমাজে সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।
স্বজনহারাদের আহাজারি আর রক্তাক্ত স্মৃতির ভেতর দিয়ে প্রশ্ন উঠছে—এই সহিংসতার শেষ কোথায়?
