বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে বড় এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জাতীয় নারী দলের পেসার জাহানারা আলম–এর করা যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম–কে দেশের সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রোববার অনুষ্ঠিত বিসিবির ভার্চুয়াল বোর্ড সভায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত নারী দলের দায়িত্ব পালনকালে মঞ্জুরুল ইসলামের আচরণ নিয়ে। সিনিয়র ক্রিকেটার জাহানারা আলম অভিযোগ করেছিলেন—নির্বাচক থাকাকালে তিনি যৌন হয়রানির শিকার হন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় বিসিবি দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে।
দীর্ঘ তদন্ত ও পর্যবেক্ষণের পর জাহানারার আনা চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটির সত্যতা নিশ্চিত হয়। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই বোর্ড সভায় মঞ্জুরুল ইসলামকে বাংলাদেশের ক্রিকেটে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। ফলে দেশে ফেরার পর বা দেশের কোনো ঘরোয়া ও পেশাদার ক্রিকেট কাঠামোয় তার আর কোনো সম্পৃক্ততা থাকবে না। সূত্র জানায়, বর্তমানে বিদেশে নারী ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও দেশের ক্রিকেটে তার জন্য সব দরজা কার্যত বন্ধ হয়ে গেল। একই সঙ্গে বিসিবি জানিয়েছে—ভুক্তভোগী চাইলে ব্যক্তিগতভাবে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন এবং সে ক্ষেত্রে বোর্ড তাকে সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তা দেবে।
এই সিদ্ধান্ত শুধু একজন ক্রিকেটারের শাস্তি নয়; বরং নারীদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক ক্রীড়া পরিবেশ গড়ার এক শক্ত বার্তা। জাহানারার এই সাহসী অবস্থানকে অনেকেই দেখছেন নারী ক্রিকেটারদের সম্মান, নিরাপত্তা ও আত্মমর্যাদার লড়াইয়ের প্রতীকী বিজয় হিসেবে।
