দেশের সুফি তরিকার মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার প্রত্যয়ে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমধর্মী ও হৃদয়ছোঁয়া ইফতার মাহফিল। রবিবার আয়োজিত এই মাহফিলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশ থেকে আগত শত শত পীর-মাশায়েখ, সুফি সাধক, আলেম ও ইসলামী গবেষকদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য পরিবেশ।
মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্বদানকারী ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা হুজুরের আন্তরিক নিমন্ত্রণে আয়োজিত এই মাহফিলে অংশ নেন দেশ-বিদেশের পাঁচ শতাধিক পীর-মাশায়েখ, সুফি সাধক, তরিকতপন্থি ব্যক্তিত্ব ও গণ্যমান্য অতিথি। ইফতার মাহফিলটি পরিণত হয় সুফি ঐক্যের এক মহামিলনমেলায়, যেখানে আধ্যাত্মিক বন্ধনে একসূত্রে আবদ্ধ হন নানা তরিকার অনুসারীরা।
আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, সুফিবাদের মর্মকথা হলো ভালোবাসা, সহনশীলতা, মানবিকতা ও আল্লাহভীতি। এই আদর্শই যুগে যুগে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার আলো ছড়িয়েছে। বর্তমান সময়ের বিভাজন ও অস্থিরতার মধ্যে সুফি তরিকার অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানবকল্যাণের পথে এগিয়ে আসা সময়ের দাবি।
ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা হুজুর বলেন, সুফি পরিমণ্ডলের মধ্যে যে বিভক্তি বা দূরত্ব রয়েছে, তা দূর করে যদি আমরা একটি সমন্বিত অবস্থান গড়ে তুলতে পারি, তাহলে সমাজে শান্তি, নৈতিকতা ও ভালোবাসার বার্তা আরও শক্তভাবে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
এদিকে ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন সাইফিয়া দরবার শরীফের হযরত মাওলানা আতায়ে রাব্বী সিদ্দিকী আস-সাইফী, ভারতের আজমির শরীফের ওয়ালী মঞ্জিলের হাজী সৈয়দ ওয়াসিম উদ্দিন চিশতী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, মোহাম্মাদিয়া দরবার শরীফের ড. মোহাম্মদ আহসানুল হাদী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম, বাংলাদেশ ইমামিয়া উলামা সোসাইটির ড. এম আব্দুল কুদ্দুস বাদশা, কলকাতার মেহেদীবাগ দরবার শরীফের মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ভুইয়া আল ওয়াইসী, গড়পাড়া ইমামবাড়ি দরবার শরীফের পীর সাহেব তাজিনুর রহমান, বকশি বাজার খানকা শরীফের শাহ সূফী সৈয়দ আনোয়ার মোবারকি আল কাদরী, নুরে হক দরবার শরীফের আল্লামা হানিফ নূরী, এবং সুরেশ্বর দরবার শরীফের ড. সৈয়দ শাহ সূফী মুক্তাদির নূরী আল সুরেশ্বরীসহ আরও অনেক বিশিষ্ট সুফি ব্যক্তিত্ব।
আধ্যাত্মিক আবহ, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ এবং ঐক্যের আহ্বানে ভরপুর এই ইফতার মাহফিল শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
প্রসঙ্গত, আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন—এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে সুফি তরিকার মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় করবে এবং সমাজে শান্তি, মানবতা ও সহমর্মিতার আলো ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
