সোমবার, ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আগের মতোই চলছে চাঁদাবাজি প্রভাব কমেনি যুবলীগের

সমতল মাতৃভূমি ডেস্ক
মার্চ ৯, ২০২৬ ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চাঁদাবাজির ঘটনায় যুবলীগ নেতাদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার পর মামলায় ফেঁসেছেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী সূত্রে জানা গেছে যুবলীগ আগের মতোই চাঁদাবাজি, দালালি করছে। তাদের প্রভাব কমেনি।

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ অ্যাসোসিয়েশনের বিএনপিপন্থি সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। টাকা না পেয়ে যুবলীগ কর্মী ও নকলনবিশ গিয়াস উদ্দিন অস্ত্র নিয়ে হুমকি দেন মাহবুবকে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি গিয়াস উদ্দিনের লোকজন মাহবুবের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় ওইদিন মাহবুবের স্ত্রী নাসরীন আক্তার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, সাবেক কমিশনার এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিউল্লাহ শফি এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী যুবলীগের সভাপতি নুর হোসেন লেদুর পৃষ্ঠপোষকতায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কয়েক বছর ধরে গিয়াস উদ্দিন ও তাঁর অনুসারীরা চাঁদাবাজি করছেন। চাঁদা না পেয়ে ১ মার্চ গিয়াস উদ্দিন মাহবুবকে অবরুদ্ধ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মাহবুবকে উদ্ধার করে গিয়াস এবং কুনিপাড়া ইউনিটের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আকিবকে থানার সোপর্দ করেন। এ সময় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা বিএনপির আহ্বায়ক আইনুল ইসলাম চঞ্চল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় তাদের থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হলে উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন গিয়াসউদ্দিন। তিনি অভিযোগ করেন, ১ মার্চ তাঁকে তেজগাঁও আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে অপহরণ করা হয়েছিল।

মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আওতাধীন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন এবং সাবেক সদস্য এইচ এম ফয়সাল, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেনসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ৩ মার্চ কেন্দ্রীয় যুবদল ওই তিন নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে।

তবে যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলী বলেন, যেখানে অপহরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। চাঁদাবাজির ঘটনায় স্থানীয়রা দুই চাঁদাবাজকে থানায় সোপর্দ করেন। ঘটনার দিন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এর পরও কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়া, তাঁর কাছে ঘটনার বিষয়ে না জেনে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে মাহবুব হোসেন গণমাধ্যম কে বলেন, ‘আমরা পুরো প্যানেলসহ জয়লাভ করেছি। এরপর থেকে তারা আমাকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আমার ওপর হামলা করেন গিয়াসউদ্দিনসহ তাঁর অনুসারীরা। গত রোববার তারা আবার আমাকে অবরুদ্ধ করলে স্থানীয়রা মুক্ত করে গিয়াস ও অন্য একজনকে থানায় সোপর্দ করেন। পরে জানতে পারি থানা থেকে সে মুক্ত হয়ে উল্টো মিথ্যা মামলা করেছে।

যুবলীগ নেতা ও নকলনবিশ গিয়াস উদ্দিন বলেন, যাদের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছেন তারা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করেছিল। কোথা থেকে এবং কীভাবে অপহরণ করা হয় সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্যর বিষয়ে তিনি বলেন, অফিসের কাজে তিনি তাদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা বিএনপির আহ্বায়ক আইনুল ইসলাম চঞ্চল গণমাধ্যম কে বলেন, ঘটনার দিন আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট চিহ্নিত দুজনকে থানায় সোপর্দ করা হয়। কিন্তু উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের নামেই মিথ্যা মামলা করেছেন গিয়াসউদ্দিন। বিএনপি ও যুবদলের অনেক নিরীহ নেতাকেও জড়িত করা হয়েছে।
সূত্র: সমকাল

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।