শারমিন জাহান
নিঃশব্দ এক বিকেলে হঠাৎই ছড়িয়ে পড়ে শোক, আতঙ্ক আর রহস্যের ঘনঘটা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মেধাবী শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছে তারই ভাড়াবাসা থেকে। মাথার পেছনে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন—চারপাশে রক্তের দাগ। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্কের ছায়া। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে।
রোববার বিকেলে সাভারের ইসলামনগর এলাকায় অবস্থিত একটি ভাড়াবাসা থেকে শারমিন জাহান নামে ওই শিক্ষার্থীর অচেতন দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, শারমিন জাহান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়–এর লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের (৫১ ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার সুবিধার্থে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের ইসলামনগর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ফাহিম আল হাসান, যিনি নিজেকে শারমিনের স্বামী বলে পরিচয় দিয়েছেন, বলেন—
বেলা প্রায় তিনটার দিকে বাসায় গিয়ে তিনি দেখেন, শারমিন ঘরের মেঝেতে পড়ে আছেন। মাথা থেকে রক্ত ঝরছে, কোনো সাড়া নেই। সঙ্গে সঙ্গে বাড়িওয়ালার সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম জানান, চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী শারমিনের মাথার পেছনে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং তারা ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানা–র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল হাওলাদার বলেন,খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ পাঠানো হয়েছে।
একটি স্বপ্নময় ভবিষ্যৎ, ক্যাম্পাসের প্রাণচাঞ্চল্য আর পরিবারের হাজারো আশা—সবকিছু যেন মুহূর্তেই থেমে গেল শারমিনের নিথর দেহের সামনে। কে বা কারা এমন নির্মম পরিণতির দিকে ঠেলে দিল এই তরুণ শিক্ষার্থীকে—সেই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সহপাঠী, শিক্ষক এবং স্থানীয়দের মনে।
পুলিশ বলছে, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে, আর সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।
