সোমবার, ২৩শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রেলক্রসিংয়ে মৃত্যু-ফাঁদ: ট্রেনের ধাক্কায় বাস টেনে আধা কিলোমিটার—১২ প্রাণ ঝরে গেল এক রাতেই

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
মার্চ ২২, ২০২৬ ২:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাসটিকে টেনে এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি

নিশুতি রাত। চারপাশে নীরবতা। হঠাৎ বিকট এক শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা—আর সেই মুহূর্তেই ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি। কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং যেন মুহূর্তেই পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী দ্রুতগামী ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে একটি যাত্রীবাহী বাস দুমড়েমুচড়ে যায়। শুধু ধাক্কাই নয়—ট্রেনটি বাসটিকে সামনে টেনে নিয়ে যায় প্রায় আধা কিলোমিটার দূর পর্যন্ত! সেই ভয়াবহ দৃশ্য দেখলে গা শিউরে ওঠে—লোহার দানবের নিচে পিষ্ট হয়ে বাসটি হয়ে যায় বিকৃত ধ্বংসস্তূপ।

১২ জনের প্রাণ ঝরে যায় ঘটনাস্থলেই, যাদের মধ্যে রয়েছে নারী, পুরুষ, এমনকি নিষ্পাপ শিশুও। আহত অন্তত ১০-১৫ জন—কারো শরীর ভাঙা, কারো স্বপ্ন চুরমার। তাদের আর্তনাদে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে পড়ে আতঙ্কে।
স্থানীয় প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, এক বিকট শব্দ… তারপর শুধু চিৎকার আর কান্না। কেউ ছুটে গেছেন খালি পায়ে, কেউ হাতে টর্চ নিয়ে—মানুষ মানুষকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল সেই ভয়াল অন্ধকার রাতে।

এসময় আহতদের একজন জানান, ঘুম ভেঙে দেখি চারদিকে রক্ত আর চিৎকার… বুঝতেই পারিনি কী হয়েছে! অভিযোগ উঠেছে চরম অবহেলার—রেলগেট খোলা ছিল কেন? অনেকে দাবি করছেন, সিগন্যালম্যানের গাফিলতিই এই মৃত্যুমিছিলের কারণ। এমনকি জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেও তাৎক্ষণিক সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও রেলওয়ে পুলিশ। রক্তাক্ত দেহগুলো একে একে উদ্ধার করে পাঠানো হয় হাসপাতালে—যেখানে শোকের মাতমে ভেঙে পড়েন স্বজনরা। তবে দুর্ঘটনার পর থেমে যায় চট্টগ্রাম-ঢাকা রেল যোগাযোগ। কয়েক ঘণ্টার নিরবতা, উদ্বেগ আর অপেক্ষার পর উদ্ধার কাজ শেষ হলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় চলাচল।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হলেও—যে প্রাণগুলো ঝরে গেল, তাদের শূন্যতা কি কোনো অর্থে পূরণ হবে? এই দুর্ঘটনা শুধু একটি খবর নয়—এটি এক রাতের ভয়াবহ স্মৃতি, অসংখ্য পরিবারের না ফেরার গল্প, আর প্রশ্নবিদ্ধ নিরাপত্তা ব্যবস্থার নির্মম প্রতিচ্ছবি। এই মৃত্যু-ফাঁদ আর কত প্রাণ কেড়ে নেবে?

এ দিকে দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সাথে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে রোববার সকাল ৮টার দিকে আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে সরিয়ে নিলে ১১ টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আবার আজ রোববার সকালে ঘটনাস্থলে যান কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। তিনি গণমাধ্যম কে বলেন, ‘আমরা নিহতদের জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করবো।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, দুর্ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন।

রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিভাগীয় ও জোনাল আরও দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উদ্ধার কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামের সাথে রেলযোগাযোগ শুরু হবে। কার অবহেলায় এ দুর্ঘটনা তা তদন্তের পর বলা যাবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।