বিবিসি ও আল জাজিরা
হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানকে দিয়েছেন স্পষ্ট ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম—এই সময়ের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দিতে হবে, নইলে শুরু হবে ভয়াবহ সামরিক অভিযান।
নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প কঠোর ভাষায় জানান, ‘ঠিক এ মুহূর্ত থেকে’ সময় গণনা শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো ধরনের ‘হুমকি’ ছাড়া প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো—বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। এমনকি প্রথম আঘাত হানার লক্ষ্য হতে পারে দেশটির সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র।
ইরানের হাতে আর কত সময়? জিএমটি সময় অনুযায়ী শনিবার রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে দেওয়া এই আলটিমেটামের ডেডলাইন— বাংলাদেশ সময়: ২৪ মার্চ, ভোর ৫টা ৪৪ মিনিট। তেহরান সময়: ২৪ মার্চ, রাত ৩টা ১৪ মিনিট, অর্থাৎ, সময় যত গড়াচ্ছে, ততই ঘনিয়ে আসছে সম্ভাব্য সংঘাতের মুহূর্ত।
পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি, যুদ্ধের শঙ্কা- ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi জানান, শুধুমাত্র যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত—তাদের জাহাজের ওপরই বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। অন্য দেশের জন্য হরমুজ উন্মুক্ত থাকবে। তবে সতর্কবার্তা দিয়ে ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের জ্বালানি ও পানি শোধনাগার স্থাপনাও তাদের টার্গেটে পরিণত হতে পারে।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নতুন মোড়- এই উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu কঠোর জবাবের ঘোষণা দিয়েছেন। আরাদ শহরে আহত: ৮৪ জন (১০ জন গুরুতর) দিমোনা শহরে আহত: ৩৩ জন।
আবাসিক ভবন ধ্বংস, বিশাল গর্ত সৃষ্টি- বিশেষ করে Dimona শহরটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ এখানে মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে পুরো অঞ্চলে
ইরান দাবি করেছে, তাদের Natanz Nuclear Facility-এ ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই আঘাত। একইসঙ্গে, ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী জানিয়েছে—ইসরায়েলের পাশাপাশি কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই উত্তেজনা এখন শুধু কূটনৈতিক চাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এটি ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুট বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এখন সবার নজর—শেষ সময়সীমা পার হওয়ার পর কী ঘটে!
