বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অন্ধকার ভোরে হঠাৎই নেমে আসে মৃত্যুর বিভীষিকা। ফেনীর রামপুর এলাকায় বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত তিনজন, আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন—যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
রোববার ভোর ৪টার দিকে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো মহাসড়কজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক আর বিশৃঙ্খলা। নিহতদের মরদেহ রাখা হয়েছে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল-এর মর্গে। এখনো তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার ভয়ংকর শুরুটা যেমন ছিল— সড়কের একপাশে চলছিল নির্মাণকাজ। সেই ফাঁকে ধীরগতিতে এগোচ্ছিল একটি অ্যাম্বুলেন্স। ঠিক তখনই পেছন থেকে এসে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস সজোরে ধাক্কা দেয় সেটিকে।
মুহূর্তেই তৈরি হয় মৃত্যু ফাঁদ- এই ধাক্কাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা, পেছনে তৈরি হয় যানজট। আটকে পড়ে মোটরসাইকেলসহ একাধিক যানবাহন। ঠিক তখনই বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা দোয়েল পরিবহনের আরেকটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেই জটলার মধ্যে ঢুকে পড়ে—ঘটে যায় ভয়াবহ ত্রিমুখী সংঘর্ষ।
ক্ষয়ক্ষতির নির্মম চিত্র- এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত হন এক মোটরসাইকেল আরোহী, একটি বাসের সুপারভাইজার এবং এক যাত্রী। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে ওঠে মহাসড়ক।
উদ্ধার তৎপরতা- খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত যান সরিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন এবং হাসপাতালে পাঠান।
প্রশ্ন রয়ে যায়— একটি ধাক্কা, কিছুটা অসতর্কতা আর বেপরোয়া গতি—এতেই কি বারবার রক্তাক্ত হবে মহাসড়ক? এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সড়কে এক মুহূর্তের ভুলই কেড়ে নিতে পারে বহু প্রাণ।
