ছবি সংগৃহীত
ঈদের আনন্দ যখন গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার কথা, ঠিক তখনই জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে নেমে আসে এক হৃদয়বিদারক শোকের ছায়া। ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে নির্মিত একটি ভাসমান সেতু হঠাৎ উল্টে গিয়ে কেড়ে নেয় পাঁচটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ—যেন আনন্দের দিন মুহূর্তেই পরিণত হয় অশ্রুর সাগরে।
রোববার, স্বজনদের বুকফাটা কান্নার মধ্যে নিজ নিজ এলাকায় জানাজা শেষে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় এই পাঁচ শিশুকে। ছোট ছোট কফিন, আর্তনাদে ভেঙে পড়া মা-বাবা, নির্বাক হয়ে যাওয়া গ্রাম—সব মিলিয়ে এক শোকাবহ দৃশ্যের অবতারণা হয়।
ঘটনার তদন্তে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ. কে. এম. আব্দুল্লাহ-বিন-রশিদকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কীভাবে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল, তার কারণ খুঁজে বের করতে শুরু হয়েছে অনুসন্ধান।
সরকারি সহায়তার পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত নিহতদের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে জেলা প্রশাসকও প্রতিটি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
শনিবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় অতিরিক্ত মানুষের চাপ সহ্য করতে না পেরে সেতুটি হঠাৎ করেই ভেঙে উল্টে পড়ে ব্রহ্মপুত্রের বুকে। মুহূর্তেই শুরু হয় চিৎকার, আর্তনাদ আর বাঁচার আকুতি। অনেকেই প্রাণপণে সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও পাঁচটি শিশু হারিয়ে যায় উত্তাল জলের গভীরে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানে নামে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার টানা অভিযানের পর রাত ১১টার দিকে একে একে উদ্ধার করা হয় পাঁচটি নিথর দেহ—যেন প্রতিটি দেহই একেকটি নিভে যাওয়া স্বপ্ন। এখনও সেই গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে আছে কান্না ও শোকের স্তব্ধতায়। ঈদের হাসি সেখানে রূপ নিয়েছে নিঃশব্দ হাহাকারে।
