প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন এখন আর কেবল দূর আকাশের তারা নয়—সেটিকে ছুঁয়ে দেখার জন্য যেন হাত বাড়িয়ে দিল রাষ্ট্র নিজেই। বিদেশে পড়তে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর তরুণ-তরুণীদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধার ঘোষণা এসেছে, যেন এক নতুন ভোরের আলো।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর সাংবাদিকদের জানালেন এ সুখবর। তিনি বলেন, কোরিয়া, জাপান, চীন, জার্মানির মতো জ্ঞানসমৃদ্ধ দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—যেন স্বপ্নের পথে কোনো আর্থিক অন্ধকার না থাকে।
এই ঋণ যেন নিছক অর্থ নয়, বরং এক নির্ভরতার প্রতিশ্রুতি। এটি হাতে তুলে দেওয়া নগদ অর্থ নয়; বরং শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য সরাসরি সহায়তা—যেন প্রতিটি টাকা তাদের ভবিষ্যতের ইট গাঁথার কাজে লাগে। ব্যাংক গ্যারান্টির জটিলতা, গ্যারান্টরের অভাব—এসব বাধা সরিয়ে দিয়ে সরকার যেন বলছে,“স্বপ্ন দেখো, আমরা পাশে আছি।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বিদেশে পড়তে যাওয়া অনেক শিক্ষার্থীই পরবর্তীতে সেখানেই কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত হন। এতে যেমন তারা নিজেদের জীবন গড়ে তোলেন, তেমনি দেশের জন্য নিয়ে আসেন রেমিট্যান্সের উজ্জ্বল ধারা। ফলে এই উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত নয়, জাতীয় উন্নয়নেরও এক নীরব সেতুবন্ধন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও আশাবাদী তিনি। সাময়িক ঝড় থাকলেও, যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য খুলে যেতে পারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার—যেন ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকেও জন্ম নেয় নতুন জীবন।
অভিবাসন ব্যয়ের অস্বচ্ছতা ও সিন্ডিকেট ভাঙার প্রতিশ্রুতিও এসেছে দৃঢ় কণ্ঠে। আগামী ১৮০ দিনের পরিকল্পনায় ব্যয় নির্ধারণ করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধের উদ্যোগ চলছে। মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের শ্রমবাজার পুনরায় চালুর আশাও জাগিয়েছে নতুন প্রত্যাশা।
আর জাপান—যেন এক সম্ভাবনার সোনালি দ্বীপ। সেখানে এক লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে ‘জাপান সেল’। ইউরোপে ভিসা প্রক্রিয়াকে সহজ করতে ঢাকাতেই কনস্যুলার সেবা চালুর উদ্যোগ—সব মিলিয়ে বিশ্ব দরজায় বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও দৃঢ় করার এক প্রচেষ্টা।
সবশেষে, এই উদ্যোগগুলো যেন শুধু নীতিনির্ধারণ নয়—এগুলো তরুণদের স্বপ্ন, তাদের ভালোবাসা, তাদের সংগ্রামের প্রতি এক মমতাময় স্পর্শ। দূর দেশে পাড়ি জমানোর আগে তারা এখন জানবে—পেছনে রয়েছে একটি দেশ একটি রাষ্ট্র, যে তাদের উড়তে শেখাতে উদ্বুদ্ধ করতে চায়।
