প্রতীকী ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দিনদুপুরে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ও রোমাঞ্চকর হত্যাকাণ্ড। নিজের ঘর থেকেই তুলে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে ৩০ বছর বয়সী কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীন ইসলামকে। মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামজুড়ে এখন শোক, আতঙ্ক আর ক্ষোভের ছায়া।
দ্বীন ইসলাম—যিনি ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামে ফেসবুক ও ইউটিউব পেজ চালিয়ে এলাকায় অপরাধ, মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করতেন—তার সেই কণ্ঠই আজ চিরতরে স্তব্ধ।
পরিবারের দাবি, সত্য প্রকাশের “অপরাধেই” তাকে জীবন দিতে হয়েছে। নিহতের বাবা সফিকুল ইসলামের কণ্ঠে অসহায় আর্তনাদ— ও শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলত, তাই ওদের রোষানলে পড়তে হলো আমার ছেলেকে।
এদিকে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একদল যুবক পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে দ্বীন ইসলামকে বেধড়ক মারধর করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তার নিথর দেহ ফেলে যায়।
তবে পুলিশ জানিয়েছে ভিন্ন তথ্যও। কসবা থানার ওসি নাজনীন সুলতানা বলেন, দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে মাদক, চুরি ও ডাকাতিসহ প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একদিকে “অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ”, অন্যদিকে “বহু মামলার আসামি”—এই দ্বৈত পরিচয়ের মাঝেই রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে দ্বীন ইসলামের মৃত্যুকে ঘিরে।
এটি কি সত্য বলার মাশুল, নাকি পুরনো শত্রুতার রক্তাক্ত পরিণতি? কে বা কারা নিভিয়ে দিল এই তরুণ কণ্ঠ? প্রশ্নগুলো এখন কসবার আকাশে বাতাসে ঘুরপাক খাচ্ছে… আর উত্তর খুঁজছে শোকাহত একটি পরিবার।
