ইরানের প্রধান সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়ার সদরদপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি ছবি:সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রধান সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়ার সদরদপ্তরের মুখপাত্র বলেছেন, ‘আপনাদের পরাজয়কে চুক্তি বলে অভিহিত করবেন না।’
বুধবার মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারির একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করেছে ইরানি গণমাধ্যম। বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি ইব্রাহিম। তবে ‘স্বঘোষিত বিশ্ব পরাশক্তি’ শব্দগুচ্ছ উল্লেখ করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করে।
ইব্রাহিম জোলফাগারি বলেছেন, ‘আপনাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মাত্রা কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখন নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে আলোচনা করছেন?’
জোলফাগারি আরও বলেন, এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে নিশ্চিত হয়। এই বিষয়টি আগে আপনাদের বুঝতে হবে। এটি যতক্ষণ না বুঝতে পারছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনাদের বিনিয়োগ, জ্বালানি ও তেলের আগের দাম- কোনোটাই ফিরে পাবেন না। আপনাদের বুঝতে হবে- শক্তিই স্থিতিশীলতা আনে।
ভিডিও বার্তায় ইব্রাহিম জোলফাগারি বলেন, ‘আমাদের মতো আর কেউই আপনাদের সঙ্গে সমঝোতায় যাবে না। এটি আর কখনোই ঘটবে না।
গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল-১২ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দফাগুলোর মধ্যে আছে- ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিষিদ্ধ করা। পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতও নিশ্চিত করবে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানকে নাতানজ, ইসফাহান ও ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা ব্যবহার বন্ধ ও ধ্বংস করতে হবে। দেশটির পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের ওপর তদারকি করবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। ইতোমধ্যে সঞ্চিত পারমাণবিক সক্ষমতাগুলো নির্মূল এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। সমস্ত সমৃদ্ধ উপাদান আইএইএ’র কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
দফা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি একটি মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া, ইরানকে আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীদের অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এগুলোর সংখ্যা ও পাল্লা সীমাবদ্ধ থাকবে, ব্যবহার করতে পারবে শুধু আত্মরক্ষার স্বার্থে।
বিনিময়ে ইরানের ওপর বছরের পর বছর ধরে জারি থাকা সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে বলে চ্যানেল-১২ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এছাড়া, বুশেহর কেন্দ্রে (ইসলামি বিপ্লবের আগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র) ইরানকে বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি উন্নয়নে সহায়তা করা হবে।
